জয়পুরহাটের পাঁচবিবী উপজেলার পূর্ব উচনা ঘোনাপাড়া সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরে দুই বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের পর নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কয়া বিওপির আওতাধীন পূর্ব উচনা ঘোনাপাড়া সীমান্তের ২৮১ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলারের ৪৭ ও ৪৮ নম্বর উপপিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় কয়েক দিন ধরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় বিএসএফ। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে এলে তাঁরা বিজিবিকে অবহিত করেন।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায় এবং বিএসএফের কার্যক্রমের বিষয়ে আপত্তি জানায়। এ সময় দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সীমান্ত এলাকায় নতুন করে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগের খবরে তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়া বিওপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিজিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় বিদ্যমান নিয়ম ও দুই দেশের মধ্যে প্রচলিত সমঝোতার আলোকে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
পাঁচবিবী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অতীতেও বিভিন্ন সময় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা ও পতাকা বৈঠকের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এআর




