বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

শূন্যরেখায় ১০ জনের মানবেতর জীবন, সমাধান ছাড়াই শেষ পতাকা বৈঠক

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

শূন্যরেখায় ১০ জনের মানবেতর জীবন, সমাধান ছাড়াই শেষ পতাকা বৈঠক

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা ১০ নারী, পুরুষ ও শিশু এখনও দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত একাধিক পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা দ্বিতীয় দিনের মতো মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পুনরায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় দ্বিতীয় দিনের মতো আটকে পড়া ব্যক্তিরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞাপন


এর আগে সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় আটকে পড়া ব্যক্তিরা চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে অবস্থানরত এসব নারী, পুরুষ ও শিশু ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ঘটনাটি জানতে পেরে তা প্রতিহত করে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওপারের একটি সূত্র জানায়, গত শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকযোগে অতিরিক্ত ফোর্সসহ প্রায় ১২০ জনকে ঠেলে পাঠানোর জন্য ভারত সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় আনা হয়। পরে তাদের কয়েকটি দলে ভাগ করে ১০ থেকে ১২ জন করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়।

প্রথমে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর–রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাতভর আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।


বিজ্ঞাপন


এ সময় কাঁটাতারের গেটগুলোর আগে সীমান্তের সার্চলাইট বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। বিজিবি বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তজুড়ে টর্চ ও সার্চলাইট জ্বালিয়ে পুরো এলাকা আলোকিত রাখে। বিজিবির টহল দল সতর্ক থাকায় ওই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

বিজিবি জানায়, একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার ১৯/এস–৬ এর কাছে আট থেকে দশ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি সদস্যরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় তাদের আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি।

pic

বিজিবি যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, এটি এমন একটি বিষয়, যা ইচ্ছা করলেই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। এখন বিএসএফ বলছে এরা তাদের লোক নয়। তবে বিজিবি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তারা এদের পুশ ইন করা হয়নি বলে দাবি করছে, অথচ ভিডিও ফুটেজে বিএসএফের ঠেলে দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরাও জানিয়েছেন।

বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা দুই দেশের মধ্যবর্তী জিরো লাইনে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে থাকলেও এখন পর্যন্ত বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি। তবে তাদের পানি ও খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম খান বলেন, যদি ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে প্রমাণসাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করতে পারে। আমরা তাদের গ্রহণ করব। তবে কোনো অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। বিজিবি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর