বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় জেলেদের জালে পেঁচিয়ে নদী থেকে উঠে আসা রহস্যময় যান্ত্রিক বস্তুটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বস্তুটির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের তারের সংযোগ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ থাকায় এটি কী এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সোমবার (১ জুন) পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদোয়ানী এলাকায় সাগর মোহনার বলেশ্বর নদী থেকে জেলেদের জালে উঠে আসা ওই যান্ত্রিক বস্তুটি পাথরঘাটা থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় সাগর মোহনার বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলেরা। জাল টেনে তোলার সময় তাতে পেঁচিয়ে উঠে আসে লাল ও হলুদ রঙের একটি অস্বাভাবিক যান্ত্রিক বস্তু। বস্তুটির সঙ্গে তারের সংযোগ ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ দেখে প্রথমে এটিকে মিসাইল, বোমা বা যুদ্ধসংশ্লিষ্ট কোনো বস্তু মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জেলেরা।
পরদিন সকালে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বস্তুটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে জেলেদের জালে রহস্যময় বস্তুটি ধরা পড়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও জল্পনা-কল্পনা দেখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় ও ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সোমবার রাতে সেটি ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। এ উদ্দেশ্যে বস্তুটি কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, বস্তুটি সমুদ্র গবেষণার কাজে ব্যবহৃত কোনো ডিভাইস হতে পারে। এর মাধ্যমে সমুদ্রের পরিবেশ, পানির গুণাগুণ, তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সমুদ্রপ্রাণী গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, সাগরের পানির গুণাগুণ, তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের জন্য সাধারণত এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। কোনো কারণে সিগন্যাল সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে এটি আটকে গিয়ে জেলেদের জালে ধরা পড়তে পারে।
মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এ ধরনের যন্ত্রে সাধারণত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। তাই যন্ত্রটি হারিয়ে গেলে গবেষণা কার্যক্রমে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সমুদ্র গবেষণায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। তবে এটি কোন দেশের বা কারা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।
এই গবেষক বলেন, আমাদের নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর তথ্য দিতে পারবে। সাধারণত এ ধরনের যন্ত্র সমুদ্রের গভীরতা, পানির বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়। তবে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, উদ্ধার করা যান্ত্রিক বস্তুটি আসলে কী, তা নিশ্চিত হওয়া এবং অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/ক.ম/




