মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

পাওনা ৮০০ টাকার জন্য বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

পাওনা ৮০০ টাকার জন্য বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মাত্র ৮০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত হামিদ দক্ষিণ লরাবাগ এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে কাজ করতেন। অপরদিকে অভিযুক্ত মো. শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে এবং পেশায় টমটমচালক।

নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামিদ ও শামীম দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রতিবেশী ছিলেন। কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করান। মেরামতের বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা পাওনা থাকলেও শামীম তা পরিশোধে গড়িমসি করছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে শামীমের বাড়ির পাশে দুজনের দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা দাবি করেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে শামীমের মা ফাতেমা বেগম ও বোন রুমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে হামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।


বিজ্ঞাপন


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীম হঠাৎ একটি ধারালো ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেন, একটি মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে শামীমকে আটক করে। একই সঙ্গে তার মা ও বোনকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা ও বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর