মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

নেত্রকোণায় হামলাকারীরাই পরে আহতদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে: জামায়াত

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোণা
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

যারা হামলা চালিয়েছে তারাই মামলা দিয়ে আসামি করেছে আহতদের: জামায়াত
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের এমপি মাছুম মোস্তফা। ছবি: প্রতিবেদক 

কোরবানির পশুর হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আবার হামলাকারীই মামলা দিয়ে আহতদের আসামি বানিয়েছে। ঘটনার সময় জেলার বাইরে অবস্থান করেছে, এমন নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়। নেত্রকোণার পূর্বধলায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর।  

নেত্রকোণার পূর্বধলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরবর্তীতে করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে দলটির উপজেলা শাখা। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে শহরের রৌশনারা রোডে উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু হুজাইফা। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ মে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত উন্মুক্ত ডাক চলাকালে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও সদ্য বহিষ্কৃত কয়েক জন পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের কয়েক জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

জামায়াতের দাবি, আহতদের মধ্যে আগিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি একেএম মাহফুজুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এছাড়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হানিফ উদ্দিন, বৈরাটি ইউনিয়ন আমির আবুল হাসনাত, খলিশাউর ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাফিউল্লাহসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আবু হুজাইফা বলেন, ঘটনার পর আহতরা নিজ এলাকায় ফেরার পথে আগিয়া বাজার এলাকায় পুনরায় হামলার শিকার হন। একই সময়ে একেএম মাহফুজুর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েক জন নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জামায়াতের আগিয়া ইউনিয়ন ওলামা বিভাগের সহ-সভাপতি মাওলানা আবু সালেহ সোহাগের মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
 
জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, গত ২৬ মে করা মামলায় দলের ৩৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলায় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
 
তাদের দাবি, মামলার প্রধান আসামি জয়নাল আবেদীন ঘটনার দিন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। একইভাবে চিকিৎসাধীন থাকা একেএম মাহফুজুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বধলা হুসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসার নবম ও দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর বয়স বাড়িয়ে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
 
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-হুমকি বন্ধ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
 
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমদ হারিছ, কর্মপরিষদ সদস্য বোরহান উদ্দিন, সদর ইউনিয়ন সেক্রেটারি আবু হানিফসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
 
বক্তারা বলেন, অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় তাদের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হলেও উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা রাজনৈতিক সহিংসতা, ভয়ভীতি ও মামলা-হয়রানির সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।  
 
তবে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ঈদের হাট ইজারা নিয়ে ওই দিন আমাদের একজন সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছে, গাড়ি পুড়িয়েছে, ভাঙচুর করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মামলা হওয়ার মতো কাজ করলে তো মামলা হবেই। 
 
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে জামায়াতে পক্ষ থেকে কোনো  অভিযোগ পাইনি। 
 
প্রতিনিধি/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর