ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় পুলিশের এক এএসআইয়ের সঙ্গে থাকা কথিত ডিবি পরিচয়ধারী কালাম নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া অভিযানে যাওয়ার অভিযোগে রুহিয়া থানার এএসআই রুবেল রানাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে রুহিয়া থানার আখানগর ফার্ম মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদিউজ্জামান।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি ওই এলাকায় প্রবেশ করে একটি কুমড়া সংরক্ষণাগারে যান, যেখানে কয়েকজন যুবক মোবাইলে লুডু খেলছিলেন। এ সময় তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে কয়েকজনের মোবাইল ফোন জব্দ করেন এবং সেখানে ‘ক্যাসিনো খেলা’ হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।
তবে মোবাইল ফোন তল্লাশি করে জুয়া বা ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট কোনো অ্যাপ বা তথ্য পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
একপর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তি একজন যুবকের হাতে হাতকড়া পরিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং মোবাইল ফোন পরে থানা থেকে নিয়ে যেতে বলেন। এতে উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ হলে তারা তাদের পরিচয় জানতে ও আইডি কার্ড দেখতে চান।
এ সময় কালাম নিজেকে ডিবি পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দিলেও কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। অপরজন রুহিয়া থানার এএসআই রুবেল রানা তার আইডি কার্ড দেখালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে কথিত ডিবি সদস্য কালামকে আটক করে মারধর করেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
কুমড়া ব্যবসায়ী মুসা অভিযোগ করেন, ভুয়া ডিবির ওই ব্যক্তি এর আগেও ডিবি পরিচয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করেছিলেন।
তিনি বলেন, আজও পুলিশের সঙ্গে এসে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অথচ মোবাইল তল্লাশিতে কোনো অপরাধের প্রমাণ বের করে দেখাতে পারেনি তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল ইসলাম, বিশ্বাস রায়সহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, পুলিশের যোগসাজশে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ওসি বদিউজ্জামান বলেন, থানার অনুমতি ছাড়াই এএসআই রুবেল রানা একজন সোর্সকে নিয়ে সেখানে যান। জুয়া খেলার অভিযোগে কয়েকজনের মোবাইল পরীক্ষা করা হলেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়রা ওই সোর্সকে আটক করে মারধর করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি তদন্ত করে এএসআই রুবেল রানাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোর্সকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে কথিত ভুয়া পরিচয়ধারীর উপস্থিতি এবং অনুমতি ছাড়া অভিযানে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রতিনিধি/এফএ




