নেত্রকোনায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো ও ছবি তোলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ফয়সাল আহমেদ (১৯) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাবনিকোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নিহত ফয়সাল আহমেদ ওই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নেত্রকোনা আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার বাবনিকোনা সংসদ বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে ওই দিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো ও ছবি তোলা নিয়ে ফয়সাল আহমেদ ও তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে একই গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে মাসুম মিয়ার (১৯) সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুম মিয়া তার পরিবারের লোকজন নিয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফয়সাল আহমেদদের ওপর হামলা চালায়। এতে ফয়সাল আহমেদ, তার চাচাতো ভাই রবিন মিয়া (১৯), চাচা সাদেকুল ইসলাম (৪২), চাচাতো ভাই উজ্জ্বল মিয়ার ছেলে সৌরভ মিয়া (১৯) আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফয়সাল ও সাদিকুলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে ফয়সাল মারা যান।
নিহত ফয়সাল আহমেদের চাচা সাদিকুল ইসলাম বলেন, মাসুম মিয়া, তার বাবা কামরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই রাজন মিয়া (১৮), রিয়াজ মিয়া (২০) ও মিলন মিয়াসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ফয়সাল নিহত হয়েছে আমরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। এ ঘটনায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাসুম মিয়াদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফয়সালের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তারা বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো ও ছবি তোলা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ফয়সাল আহমেদ নামে এক কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন আহত হন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। অভিযুক্তদের আটকের অভিযান চলছে।
প্রতিনিধি/এসএস




