বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে জেলা যুবদলের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে জেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তার ভূমিকা এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ মোজাফফর রহমান আলম বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক। তার আদর্শ ও দর্শনকে ধারণ করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও জনগণের পাশে থাকার রাজনীতির মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শমসের আলী মোহন বলেন, বিএনপির শক্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আদর্শভিত্তিক রাজনীতির চর্চা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
জেলা বিএনপির সদস্য মো. মনিরুল হক ফরাজী বলেন, বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।
পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শাহেদ আলী রবি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে কার্যক্রম বাড়াতে হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা ছাড়া শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোল্লা আতিকুর রহমান রাসেল বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ডালিম ফকির বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংগঠনিক ঐক্যের বিকল্প নেই। দলের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সরদার ওয়াহিদুল ইসলাম পল্টু, অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহম্মেদ মালেক, ছাত্রদলের সাবেক নেতা শেখ ময়েন উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওবায়দুল ইসলাম জুয়েল, কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল তরফদার নেওয়াজ, ওলামা দলের সদস্য সচিব মাওলানা জাহিদুল ইসলাম, পিসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. বিল্লাল শেখ, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহেদ সোমী বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মান্না, পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমন পাইক এবং সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবুল হাসান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুজাউদ্দিন মোল্লা। এই আয়োজনে জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধি/এফএ




