নিভৃত গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা এমদাদুল হক রাজা। পেশায় কলেজ শিক্ষক হলেও মনটা তার সবসময় পড়ে থাকে কৃষিতে। আর সেই ভালোবাসা থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন বিদেশি ফল আঙুরের চাষ। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে অনেকে অবাক ও সংশয় প্রকাশ করলেও, এখন তার সেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগই পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় আঙুর কেবলই আমদানিকৃত বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ছিল। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে এই ফলের চাষ হতে পারে, তা অনেকেই কল্পনাও করেননি। অথচ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক রাজা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন। নিজের শখ আর কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন ‘কৃষিবিদ আঙুর বাগান’। বর্তমানে বাগানজুড়ে মাচায় মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ, গোলাপি ও জাম রঙের আঙুর। এই অনন্য দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন তার বাগানে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, মাত্র ৭ শতক জমিতে গড়ে তোলা এই বাগানে রয়েছে, বাইকুনুর, গ্রিন লং, ভ্যালেজ, জয় সিডলেস, ডিকসন, ট্রান্সফিগারেশন ও রেবেকাসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের প্রায় ৫০টি আঙুর গাছ। চার বছর আগে লাগানো এই গাছগুলোতে এবার কাঙ্ক্ষিত বাম্পার ফলন এসেছে। বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে বড় বড় আঙুরের থোকা, যার কোনো কোনোটির ওজন প্রায় এক কেজি পর্যন্ত। সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করে চাষ করায় এসব আঙুর অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হয়েছে বলে জানান এই উদ্যোক্তা।
বাগানটি সড়কের পাশে হওয়ায় প্রতিদিন সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমছে। অনেকেই সপরিবারে আসছেন, ছবি তুলছেন এবং আঙুর চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিচ্ছেন।
স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান বলেন, "আমাদের গ্রামের মাটিতে এমন বিদেশি ফলের চাষ আগে কখনো দেখিনি। নিজেদের এলাকায় এত সুন্দর ও সুস্বাদু আঙুর উৎপাদন হওয়ায় আমরা সত্যিই আনন্দিত।"
আরেক দর্শনার্থী লিটন মিয়া বলেন, "রাজা ভাইয়ের বাগানটি ঘুরে দেখলাম। আঙুর পেড়ে খেয়েছি, স্বাদ বেশ মিষ্টি ও চমৎকার।"
বিজ্ঞাপন

সফল আঙুর চাষি এমদাদুল হক রাজা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "শুরুতে কেবল শখের বসেই গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। পরে যখন ফল আসতে শুরু করল, তখন উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে আমার বাগানে ২৬টি জাতের আঙুর রয়েছে। এবার বাগান থেকে আড়াই থেকে তিন মণ আঙুর পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষের পরিকল্পনা আছে।" এছাড়া নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে তিনি এখন আঙুরের চারা উৎপাদনও শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, "এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এমদাদুল হক রাজার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নতুন করে কেউ আঙুর চাষে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।"
প্রতিনিধি




