চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ পৌর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধে বেধড়ক পিটুনিতে আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী (৬৫) নামে ব্যক্তি দুইদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে একই বাড়ির বাসিন্দা অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারী (২৮) বাড়ি থেকে পালিয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১ জুন) দুপুরে পৌর এলাকার দক্ষিণ দীঘলদী গ্রামের আকরাম আলী পাটওয়ারী বাড়িতে গিয়ে নিহত ব্যক্তির স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
হত্যার শিকার মান্নান পাটওয়ারী ওই বাড়ির মৃত সিডু পাটওয়ারীর ছেলে। তিনি এক সময় ফার্নিচারের কাজ করতেন। বয়স হওয়ায় বাড়িতে অবসর ছিলেন। অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারী একই বাড়ির আরব আলী পাটওয়ারীর ছেলে।
বিজ্ঞাপন
ওই বাড়ির বাসিন্দা তাজুল ইসলাম পাটওয়ারী বলেন, নিহত মান্নান সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তার ছোট ভাই প্রতিবন্ধী হারুন পাটওয়ারী শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বাড়ির সামনে নিজের জায়গায় গাছ লাগায়। ওই গাছ উপড়ে ফেলে দেয় অভিযুক্ত সুমনের মা। এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। খবর পেয়ে সুমন পাটওয়ারী দলবল নিয়ে বাড়িতে আসে। প্রথমে হারুন পাটওয়ারী ও তার স্ত্রীকে মারধর করে। এই ঘটনার খবর পেয়ে মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়িতে আসেন হত্যার শিকার মান্নান পাটওয়ারী। তাকেও সুমন পাটওয়ারীসহ তার সঙ্গে থাকা লোকজন শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
নিহত ব্যক্তির আত্মীয় নান্নু হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর আমি ওই বাড়িতে যাই। তাদেরকে সুমন পাটওয়ারী পিটিয়ে আহত করলেও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ এগিয়ে আসেনি। আহত অবস্থায় তাদেরকে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মান্নান পাটওয়ারীর অবস্থা অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার ছেলে জনি পাটওয়ারীসহ পরিবারের লোকদের কাছ থেকে জানতে পারি উনি আজ (সোমবার) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন মৃধা বলেন, সুমন পাটওয়ারী মতলব পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার কিশোর গ্যাং বাহিনী আছে। ঘটনার সময় আমি কাছে ছিলাম। সুমন প্রায় ৭০ থেকে ৮০জন লোক নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। তার বিরুদ্ধে মুন্সিরহাট বাজারে দোকান দখল, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ আছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় আরো মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে।
মান্নান পাটওয়ারীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহু লোক নিহতের বাড়িতে আসে। তারা প্রশাসনের কাছে সুমন পাটওয়ারী ও তার কিশোর গ্যাং বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এই বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সুমন পাটওয়ারীর বাড়িতে যাওয়া হয়। দেখা যায় তাদের বাড়ির গেটে তালা দেওয়া। ভেতরে লোকজন থাকলেও কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, মান্নান পাটওয়ারী ও সুমন পাটওয়ারীদের মধ্যে জমি নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মান্নান পাটওয়ারী গুরুতর আহত হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি আজ ভোরে মারা গেছেন। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




