নবগঠিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনীতিমুক্ত, আধুনিক ও বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ঠাকুরগাঁও জেলার কৃতি শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগ, মেধাভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা, কর্মমুখী শিক্ষা এবং যুগোপযোগী বিভাগ চালুর প্রস্তাবও তুলে ধরেছেন তারা।
রোববার (৩১ মে) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব দাবি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। ‘ঠাকুরগাঁও চিরন্তন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি সুজন আল-দ্বীপ আদনান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিসান।
বিজ্ঞাপন
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোকাররম হোসেন, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক দুলাল হোসেন, অধ্যাপক আব্দুল জলিল, ঠাকুরগাঁও চিরন্তনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ আলম স্নেহ, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফিনসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ঠাকুরগাঁও জেলার শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভায় শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপাচার্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের একটি প্রান্তিক জেলা হওয়া সত্ত্বেও সঠিক অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনা, দক্ষ নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করা সম্ভব। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক অগ্রযাত্রায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বৈশ্বিক চাকরির বাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিবিএ অনুষদে অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্স বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।
সভায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেশ কিছু যুগোপযোগী দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ল্যাব সুবিধাসহ শক্তিশালী সিএসই বিভাগ, পূর্ণাঙ্গ কৃষি অনুষদ, ফুড টেকনোলজি ও ফুড প্রসেসিং বিভাগ চালু, বাংলা ও আরবি ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) প্রতিষ্ঠা, সাইকোলজি বিভাগ চালু, উত্তরবঙ্গের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব ও ফোকলোর বিভাগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ চালু করা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হলেও দক্ষতার অভাবে অনেকেই চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছেন। এ কারণে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানের কর্মমুখী শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
তারা আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি অনুষদ প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খাদ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বিভাগ চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও চিরন্তনের সভাপতি সুজন আল-দ্বীপ আদনান স্থানীয় তরুণদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের নানা প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক যেকোনো কর্মকাণ্ডে ‘ঠাকুরগাঁও চিরন্তন’-এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা সবসময় পাশে থাকবে।
আলোচনা সভার প্রধান আকর্ষণ ছিল উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীনের বক্তব্য। তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপাচার্য বলেন, আমরা এমন একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র, সিনেপ্লেক্সসহ আধুনিক নানা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকবে না। সম্পূর্ণ যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকবে না।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং যথাযথ পরিকল্পনা ও সুশাসনের মাধ্যমে এটি দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।
এআরএম




