রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢলে মুখর কক্সবাজার, চাঙ্গা পর্যটন খাত

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢলে মুখর কক্সবাজার, চাঙ্গা পর্যটন খাত

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। চোখ যতদূর যায়, শুধু মানুষের সমাগম। প্রচণ্ড গরম ও তীব্র রোদ উপেক্ষা করে হাজারো ভ্রমণপিপাসু নেমেছেন নোনাজলের উচ্ছ্বাসে। কেউ সমুদ্রে গোসল করছেন, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ মেতেছেন ঘোড়ায় চড়া, বিচ বাইক ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে।

ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ছুটির তৃতীয় দিন শনিবার থেকে বদলে যায় পুরো চিত্র। সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী, কলাতলী, দরিয়ানগর ও হিমছড়িসহ বিভিন্ন পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে পুরো সৈকত এলাকায়। এতে স্বস্তি ফিরেছে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মাঝে।


বিজ্ঞাপন


ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আহমেদ সুলতান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য কক্সবাজারই আমার প্রথম পছন্দ। নীল সমুদ্রের বিশালতা আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যেতে সবারই ভালো লাগে। বিশেষ করে সমুদ্রের গর্জনের যে অনুভূতি, তা শুধু কানে শুনে নয়, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। সেই অনন্য অনুভূতির টানেই বারবার কক্সবাজারে ছুটে আসি।’

দিনাজপুর থেকে ভ্রমণে আসা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে এসে খুব ভালো লাগছে। সৈকতে মানুষের উপস্থিতি উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। ঘোড়ার পিঠে চড়ার অভিজ্ঞতাও নিয়েছি। কিছুটা ভয় লাগলেও অভিজ্ঞতাটি ছিল বেশ রোমাঞ্চকর।’

পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও। জেট স্কি চালক জাফর আলম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দীর্ঘদিন পর সৈকতে এত বেশি পর্যটকের সমাগম দেখে আমরা আনন্দিত। সামনের কয়েকদিন এমন ভিড় থাকলে ভালো ব্যবসা হবে। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার কারণে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। ঈদের পর্যটক সমাগম সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিতে সহায়তা করবে।’

অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে লাইফগার্ড কর্মীরা। তারা সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ জোনে অবস্থান করে সমুদ্রে গোসল করার আহ্বান জানাচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বেলা ১১টার পর থেকে সাগরে জোয়ার চলছে। জোয়ারের কারণে ঢেউয়ের উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নেই। পর্যটকদের একটি বড় অংশ সমুদ্রে নেমে গোসল করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মী নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’

cox

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ট্যুরিস্ট স্কোয়াডের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), মোবাইল টিম ও স্ট্যান্ডবাই টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর