চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমান শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত তিন দিন ধরে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই স্থানে ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। ফলে তিন নদীর মোহনা এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে জমে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বিজ্ঞাপন
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের সময় এই স্থানটিতে এক চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা হয়, যা প্রিয়জনদের সাথে উপভোগ করেন অনেকে।
এদিকে তিন নদীর মোহনায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ থানা ও সদর মডেল থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নিয়োজিত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মোহনা এলাকা ঘুরে এবং দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ এখানে সময় কাটাতে এসেছেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ক্যামেরায় স্মৃতিবন্দি করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় করে ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত।
বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘এই স্থান ছাড়া আমাদের সময় কাটানোর মতো আর কোনো ভালো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে বারবার এখানে ছুটে আসি।’
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারও পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।’
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মিনহাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সময় পেলেই এই স্থানে ঘুরতে আসি। এবার ঈদের ছুটি কাটাতে বন্ধুরা মিলে এসেছি। এখানে আসলে দারুণ আনন্দ পাওয়া যায়। বিশেষ করে তিন নদীর মিলনস্থলের ঢেউ সবার নজর কাড়ে।’
কুমিল্লা থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এলাম। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা এককথায় দারুণ।’
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘ঈদ উৎসব কেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টহল টিম কাজ করছে। বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে ট্রাফিক টিম কাজ করছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও ঘোরাঘুরি করতে পারে, সেজন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে।’
প্রতিনিধি/একেবি




