শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ঢাকা

‘মোটা-তাজা হচ্ছে তারা, আমরা কমদামে বিক্রি করি তাও বাকি-বক্কা’

আশিকুর রহমান মিঠু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘মোটা-তাজা হচ্ছে তারা, আমরা কমদামে বিক্রি করি তাও বাকি-বক্কা’

‘ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটের কাছে আমরা অসহায়। তারা আমাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে মোটা-তাজা হচ্ছে, আর আমরা কম দামে বিক্রি করেও টাকা পাচ্ছি না, বাকি থাকছে। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে দিচ্ছি-দেবো বলে নানা তালবাহানা করে। আমরা চাই, সরকার যেহেতু চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়, তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লবণ দেওয়া প্রক্রিয়াজাত চামড়া যেন সরাসরি প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়; যেমনটা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।’

আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের চামড়া ব্যবসায়ী ছোট্ট মিয়া।


বিজ্ঞাপন


এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে লবণ দিয়ে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ করছেন সরাইলের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। তবে চামড়ার সঠিক মূল্য পাবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

সরেজমিনে সরাইল চামড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে স্তূপ আকারে লবণ দিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে রাখা হয়েছে। সেই সারি সারি স্তূপ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হওয়ায় বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরাইলের চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর প্রতি পিস কাঁচা চামড়া তারা গ্রামাঞ্চল থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন। পরে লবণ দিয়ে প্রতি পিস চামড়া সংরক্ষণ করতে আরও প্রায় ৩০০ টাকার মতো খরচ পড়েছে। তবে চামড়া বিক্রির সময় ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে তারা অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েন।

সরাইলের প্রবীণ চামড়া ব্যবসায়ী মাহফুজ মিয়া জানান, মূলত কোরবানির দিনে তারা কাঁচা চামড়াগুলো গ্রামাঞ্চল থেকে বিভিন্ন দামে সংগ্রহ করেন। পরে লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করা হয়। এরপর চামড়াগুলো প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকার সাভার, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার হেমায়েতপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও রয়েছে কঠিন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট সরকারি মূল্যে চামড়া কিনতে চায় না। সরকারের রেটে চামড়া বিক্রি করতে চাইলে তারা সরকারের কাছে গিয়েই চামড়া বিক্রি করার কথা বলে। এভাবে সিন্ডিকেট করে তারা কম দামে চামড়া কিনে থাকে।


বিজ্ঞাপন


তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, এখানেই শেষ নয়, তারা চামড়া কেনার পর টাকা বাকি রাখে। এই পরিস্থিতির কারণে অনেক চামড়া ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে চলে আসতে বাধ্য হন। আর এ কারণেই এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাস্তাঘাটে কাঁচা চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

গতকাল দিনভর কোরবানির পশুর শত শত পিস কাঁচা চামড়া রাস্তার ওপর স্তূপ আকারে পড়েছিল। চামড়ার দাম না পেয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা শহরের পুরাতন কোর্ট রোড, পৌর সুপার মার্কেট, পূবালী ব্যাংক চত্বর ও মঠের গোড়া এলাকায় চামড়াগুলো ফেলে রেখে চলে যান। পরে এসব চামড়া পচে দুর্গন্ধ ছড়ালে পথচারীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সন্ধ্যার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পক্ষ থেকে এসব পচা চামড়া অপসারণ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সরকার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর