শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ঢাকা

চাঁদাবাজ-বখাটেদের দাপটে বালাসী ঘাট থেকে বিমুখ দর্শনার্থীরা

তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

চাঁদাবাজ-বখাটেদের দাপটে বালাসী ঘাট থেকে বিমুখ দর্শনার্থীরা
বালাসী ঘাট।

নদীবেষ্টিত গাইবান্ধার অন্যতম বিনোদন স্থল ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসী ঘাট। একসময়ে চিরচেনা দর্শনীয় এই স্থানে প্রত্যেক ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রকৃতির রূপে নদীপারে মাতোয়ারা হয়ে উঠতেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু গেল ঈদে সেই ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। ইতোপূর্বে চাঁদাবাজ, বখাটে ও ছিনতাইকারীদের দাপটে নিরাপত্তাহীনতার কারণে দর্শনার্থীরা ধীরে ধীরে বিমুখ হচ্ছেন এই বালাসী ঘাট থেকে।

ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত বালাসী ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে- দর্শনার্থীদের ঢিলেঢালা উপস্থিতি। নতুন করে যারা এসেছেন তারাও আবার ঘুরছেন অপরাধীদের আতঙ্কে।


বিজ্ঞাপন


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরের নদীবেষ্টিত জেলা গাইবান্ধা। নদীমাতৃক এই সুন্দর বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের মধ্য ফলছড়ির এই বালাসী ঘাট। এ জেলায় বিনোদনের জন্য কয়েকটি স্থান থাকলেও সেগুলোতে কৃত্রিম কিছু দেখা ছাড়া প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য তেমনটি চোখে পড়ে না। তাই প্রত্যেক বছরে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বালাসী ঘাটে ছুটে আসেন বিনোদনপ্রেমীরা। এখানে প্রকৃতির নির্মল বাতাস আর মুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে মনের আনন্দে ঘোরাঘুরিতে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন তারা। কিন্তু এসব আনন্দ যেন এখন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

স্থানীয়রা বলছেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নদে নামানো হয়েছে বেশ কিছু নৌকা। বালু চরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঘোড়া গাড়ি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দর্শনার্থীর উপস্থিতি না থাকায় এসব ব্যবসায় ধস নেমেছে।

আরও পড়ুন

সাদুল্লাপুরে ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙন, বিলীন বহু ঘরবাড়ি

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, বালাসী ঘাটে বখাটেদের উত্যক্তকরণ, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাইয়ের মতো নিরাপত্তাহীনতার কারণে দর্শনার্থীরা বিমুখ হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের হেনস্তা এবং স্থানীয় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।


বিজ্ঞাপন


মেহেদী হাসান ও রাফিয়া সুলতানা নামের দর্শনার্থীরা বলেন, এই ঘাটে আসা মাত্রই নৌকা মাঝিদের কাছে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। কেউ কেউ না বুঝে নৌকায় ওঠে মাঝপথে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। আবার বালুচরে পৌঁছামাত্র শুরু হয় বখাটেদের উৎপাত। বিদ্যমান ঘটনার কারণে এই ঘাটে আর কখনও ঘুরতে আসবেন না বলে তাদের অভিযোগ।

একাত্তর টেলিভিশনের স্থানীয় ক্যামেরা পার্সন তাজরুল ইসলাম বলেন, বালাসী ঘাটে অবৈধ টোলের নামে চাঁদা দাবি করে নৌকার মাঝিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পকেটে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনাটি আমি ভিডিও ধারণ শুরু করলে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পরিচয় দেওয়া এক যুবক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে ফোনে থাকা ভিডিও ফুটেজ ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ডিলিট করে দেয়। এছাড়াও আমাকে ধাক্কা দেয়, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এ ব্যাপারে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, বালাসীতে আগত মানুষেরা যাতে করে নির্বিঘ্ন আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে বিষয়ে নজরদারি রয়েছে। 

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর