লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) আন্তর্জাতিক সনদ না থাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের সিন্ডিকেটের কারণে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে কাঁচা চামড়ার বাজারে চরম অস্থিরতা ও মূল্য বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্যানারি পল্লী ব্যস্ত হয়ে উঠলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কোরবানিদাতা, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভে কোরবানির পশুর চামড়া নদী কিংবা ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিচ্ছেন।
চামড়া শিল্প নগরী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ট্রাকে করে প্রায় ৫ লাখ পশুর চামড়া এসেছে সাভারের হেমায়েতপুরের ট্যানারি পল্লীতে। তবে ঈদের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনেক চামড়া অবিক্রীত অবস্থায় ট্রাকেই পড়ে আছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্যানারি মালিকরা দাম আরও কমিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের।
বিজ্ঞাপন
মুন্সিগঞ্জের একটি মাদরাসা থেকে পাঁচ ট্রাক চামড়া নিয়ে আসা একদল শিক্ষার্থী জানান, সারারাত বিভিন্ন ট্যানারিতে ঘুরেও তারা সব চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। সময় যত গড়াচ্ছে, ক্রেতারা তত কম দাম হাঁকাচ্ছেন। অনেকে বিক্রি করতে না পেরে খাসির চামড়া ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন। সাভারের ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আলম উদ্দিন বলেন, ‘১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনলাম। সেই গরুর চামড়া যদি ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়, তবে তা বিক্রি করার চেয়ে পানিতে ফেলে দেওয়াই ভালো।’
ট্যানারি মালিকরা অবশ্য কম দামের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সংকট ও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। এবিএস ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম হোসেন বলেন, ‘সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় আমরা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পাচ্ছি না। ফলে ইউরোপের বাজারে আমাদের চামড়া রপ্তানি বন্ধ। এখন চীনের কয়েকটি সিন্ডিকেট যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, আমাদের বাধ্য হয়ে সেই দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো বিকল্প বাজার নেই।’
চামড়া ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, প্রক্রিয়াজাতকরণের কেমিক্যাল, শ্রমিক ও বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়েছে। আগে যে সালফিউরিক অ্যাসিড ৩৫ টাকায় কেনা যেত, তা এখন ১৮০ টাকার ওপরে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ সেন্টে চামড়া বিক্রি করতে হওয়ায় তারা ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়ছেন।
শুক্রবার দুপুরে সাভারের চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শনে আসেন শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিইটিপি ও কয়েকটি কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অতীতে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। যারা লোকসানের শিকার হয়েছেন, তাদের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে।’ সিইটিপির সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সক্ষম কারখানাগুলোর নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সরকার এতে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি




