পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে এবার ঈদুল আজহার আনন্দের বদলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঈদে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য এখন ১৩ বছরের কিশোর রহমাতুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সোহাগ (৩৮), তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (২৮) এবং ছোট ছেলে আরমান (৮)।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে সোহাগ পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকার আলীগঞ্জে থাকতেন। সেখানে তিনি গত পাঁচ বছর ধরে গাছ টানা ট্রাকের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দোলা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাসটি বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও মৃত্যুর খবর আসে। এই দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ কিশোর রহমাতুল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার বাবা-মা আর ছোট ভাই সবাই চলে গেছে। এখন আমি কীভাবে থাকব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসানাত ডালিম জানান, নিহতরা তার প্রতিবেশী। ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতি ঈদেই ঘরে ফেরার বাড়তি চাপের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত যানবাহন, বেপরোয়া গতি ও চালকদের ক্লান্তির কারণে উৎসবের সময় সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সোহাগের পরিবারের এই আকস্মিক মৃত্যুতে কলারদোয়ানিয়া গ্রামজুড়ে এখন শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
প্রতিনিধি/একেবি




