নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে সুরমা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওই গৃহবধূর স্বামী ওয়াসিম মিয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে গ্রেফতার ওয়াসিম মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিন বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার মানশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুরমা আক্তার পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার মেয়ে। তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলার মানশ্রী গ্রামের আব্দুর ছাত্তারের ছেলে ওয়াসিম মিয়ার (৩৫) স্ত্রী। তাদের সংসারে ৭ বছর বয়সী এক ছেলে ও আড়াই বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (ঈদুল আজহার দিন) বিকেল ৫টার দিকে স্বামীর বাড়ির বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সুরমার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর আগে সুরমার সঙ্গে ওয়াসিম মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ওয়াসিম মিয়া বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রায়ই গালাগাল ও কটু কথা বলতেন। ঘটনার দিনও তাকে গালাগাল করে ‘তুই ফাঁস লেগে মরতে পারস না’ বলে অপমান করা হয়। স্বামীর এমন নির্যাতন ও কটূক্তিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুরমা আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই সুরমার ভাই আনিছ মিয়া বাদী হয়ে ওয়াসিম মিয়াসহ তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত ওয়াসিম মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জসীম উদ্দিন বলেন, মামলা দায়েরের পর প্রধান অভিযুক্ত ওয়াসিম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
প্রতিনিধি/এসএস




