শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে চামড়ার বাজারে হতাশা, ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বিক্রেতারা

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ঠাকুরগাঁওয়ে চামড়ার বাজারে হতাশা, ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বিক্রেতারা

ঈদুল আজহাকে ঘিরে সরকার চামড়ার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি ঠাকুরগাঁওয়ের বাজারে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে ক্রেতারাও বলছেন, বাজারে নেই স্থিতিশীলতা ও বড় ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি। ফলে সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন


সরকার চলতি বছর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দামে কোথাও চামড়া বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগে কম দামে চামড়া কিনে নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী।

চামড়া বিক্রি করতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, এক লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি করলাম মাত্র সাড়ে পাঁচশ’ টাকায়। চামড়ার কোনো দাম নাই, আবার কেনারও লোক নাই।

মাদরাসা শিক্ষক মো. আব্দুস সামাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিন্ডিকেটের কারণেই আমরা চামড়া বিক্রি করতে পারছি না। চামড়ায় সামান্য দাগ থাকলেও কেউ নিতে চায় না। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ বা ৬০০ টাকায় চামড়া বিক্রি হচ্ছে। অথচ চামড়ার তৈরি জুতা কিনতে গেলে তিন-চার হাজার টাকার নিচে পাওয়া যায় না। কিন্তু আমরা চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাই না।

স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, সরকার দাম বাড়ালেও বাস্তবে সেই দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। কোরবানির চামড়ার টাকা এতিম-মিসকিনদের হক। কিন্তু আমরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক সময় চামড়া ফেলে দিতেও বাধ্য হচ্ছি। সরকারের উচিত এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া।


বিজ্ঞাপন


মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়া সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করছেন। আবার গত বছরের লোকসানের অভিজ্ঞতায় অনেক ব্যবসায়ী এবার চামড়া কিনতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

CS

সরকারি ঘোষণায় ঢাকার বাইরে গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং খাসির চামড়ার দাম ধরা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ২০ টাকাতেও কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেক ব্যবসায়ী।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সময়মতো চামড়া বিক্রি করতে না পারা, সংরক্ষণ সংকট এবং ট্যানারি মালিকদের অনাগ্রহের কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত বছর অনেক ব্যবসায়ী চামড়া পচে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এ কারণে এবার অনেকেই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

তাদের দাবি, দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে রক্ষা করতে শুধু দাম ঘোষণা করলেই হবে না, মাঠ পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন, কঠোর তদারকি এবং সরাসরি ট্যানারির মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে চামড়ার বাজারে একই সংকট ফিরে আসবে।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর