শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের ৭ বারের সাবেক এমপি দবিরুল ইসলাম আর নেই

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

Dobirul

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আলহাজ্ব মো. দবিরুল ইসলাম আর নেই।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল ৬টার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।


বিজ্ঞাপন


পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েকদিন আগে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

তার মৃত্যুর খবরে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা

দবিরুল ইসলাম ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তীতে সক্রিয়ভাবে বাম রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।


বিজ্ঞাপন


১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দলটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করেন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি একজন অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য ও জনসম্পৃক্ত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস

মো. দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসন ( বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলা) থেকে মোট সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরল রেকর্ড গড়েন।

তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ১৯৯৬ সালে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম, ২০০৮ সালে নবম, ২০১৪ সালে দশম এবং ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এ ছাড়াও তিনি স্বাধীনতার পর থেকে ৭২-৭৯ সাল পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হন। তার সময়ে সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, গ্রামীণ অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে নানা কাজ বাস্তবায়িত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতেন। এলাকার মানুষ সহজেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

গ্রেফতার ও আইনি আলোচনা

গত ৩ অক্টোবর ২০২৪ সালে দবিরুল ইসলামকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি সে সময় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অসুস্থতা জনিত কারণে পরবর্তীতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে কারাগারে থেকে জামিনে মুক্ত হন। তারপর থেকেই তিনি ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

শোকের ছায়া

তার মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজার নামাজ ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে।

প্রতিনিধি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর