বগুড়ায় পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দুই শ্রমিককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন পরিবহন শ্রমিকেরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে
তাদের জামিনে মুক্তির আশ্বাস দিলে দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। অবরোধের কারণে উত্তরবঙ্গগামী কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে থাকায় ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৭ মে) দুপুর দেড়টার দিকে পরিবহন শ্রমিকেরা বগুড়ার চারমাথা, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এবং শহরের ঠনঠনিয়া, ঢাকা বাস টার্মিনালের সামনে মহাসড়কে অবরোধ করেন।
জানা গেছে, বুধবার ভোররাত চারটার দিকে বগুড়ার হাইওয়ে পুলিশ সুপার আবু তোরাব মোহম্মদ সামছুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাটিডালী বিমানমোড় এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় বিভিন্ন যানবাহন থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সময় মনির হোসেন (৫০) ও আব্দুর রহিম (৩৫) নামের দুই পরিবহন শ্রমিককে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতবিচার আইনে মামলা করে হাইওয়ে পুলিশ। এর প্রতিবাদে দুপুর দেড়টা থেকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন মোটর শ্রমিকেরা।
অবরোধ চলাকালে শ্রমিক নেতা শেখ ফরিদ বলেন, আমরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জীবন মরণের চিন্তা না করে রাস্তায় থেকে জনগণের সেবা দেই। অথচ রাস্তাঘাটের সব জায়গায় আমাদের শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে।
এদিকে আকস্মিক এই অবরোধের কারণে ঈদের আগে বাড়ি ফেরা সাধারণ যাত্রীরা পড়েন অন্তহীন দুর্ভোগে। ঢাকা থেকে আসা সাইফুল ইসলাম নামের এক বাসযাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে গাড়িতে উঠেছি, এখনো বাসায় পৌঁছাতে পারি নাই। শ্রমিক আর প্রশাসনের কী ঝামেলা তা আমরা জানি না, কিন্তু সাধারণ মানুষ হিসেবে এর দায় কেন আমাদের নিতে হবে? এখন আমাদের কী অবস্থা তা বাসা থেকে সবাই টেনশন করছে।
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক নারী যাত্রী রোখসানা খাতুন বলেন, প্রায় ২০ ঘণ্টা জার্নি করে বাড়ির কাছাকাছি এসে এই ভোগান্তি ভালো লাগে না। আমরা অনেক দূর থেকে আসছি। আমাদের দাবি, সাধারণ মানুষকে ভুক্তভোগী না বানিয়ে ওনারা যা করার পুলিশের সাথে নিজেরা মীমাংসা করে নিক।
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন পিন্টু বলেন, বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২৬ হাজার শ্রমিক প্রায় ৪০ লাখ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া দিয়ে আমরা দিন-রাত জানমাল ও পণ্যবাহী গাড়ি সচল রাখি। আমাদের নিরীহ শ্রমিকদের রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে আজ দ্রুত বিচার আইনের মামলায় কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলার আসামিদের জামিনের বিষয়ে ঈদের পর বিবেচনা করা হবে এমন আশ্বাসে এবং ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




