বগুড়ার শিবগঞ্জে ঋণের নির্মম যাতাকলে পিষ্ট হয়ে ওলটপালট হয়ে গেল একটি পরিবার। দেনার দায় সইতে না পেরে স্বামীর আত্মহত্যার মাত্র দেড় মাসের মাথায়, গভীর মানসিক বিপর্যয় থেকে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী রত্না রানী সরকারও (৩০)। মাত্র ৪৫ দিনের ব্যবধানে এক ঋণের অভিশাপ কেড়ে নিল দুটি প্রাণ। এই দম্পতির এমন করুণ পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে রত্না রানীর মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের মৃত রতন সরকারের স্ত্রী এবং দুলাল চন্দ্র সরকারের মেয়ে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রত্না রানীর স্বামী রতন সরকার পেশাগত বা ব্যক্তিগত কারণে বেশ কিছু টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে পাওনাদারদের তাগাদা ও ঋণের চাপ সইতে না পেরে তীব্র মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন তিনি। এরই জেরে গত দেড় মাস আগে সবার অগোচরে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেন রতন।
স্বামীর আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রত্না রানী মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। একদিকে জীবনসঙ্গী হারানোর শোক, অন্যদিকে স্বামীর রেখে যাওয়া ঋণের বিশাল বোঝা ও পাওনাদারদের চাপ তাঁর ওপর এসে পড়ে। নিদারুণ একাকীত্ব ও আর্থিক অনটনের মুখে পড়ে চরম হতাশায় দিন কাটছিল তার।
স্বজনরা জানান, এই মানসিক বিপর্যয় সহ্য করতে না পেরে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ ঘরে রতন সরকারের মতোই বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন রত্না রানী। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় গাংনগর বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জেলা সদরের শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তাঁর জীবনের স্পন্দন থেমে যায়।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ রত্না রানীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুজনিত মানসিক আঘাত ও ঋণের চাপের কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিনিধি/একেবি




