ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যান্ত্রিক নগরজীবন ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহরবাসীদের এই ঘরে ফেরার ঢলে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামীণ জনপদ; একই সঙ্গে সচল হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি।
ঈদ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। পোশাক, জুতো, প্রসাধন, মিষ্টি ও নিত্যপণ্যের দোকানে বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ। শহর থেকে ফেরা মানুষজন পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটা করায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটেছে হাসি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ঈদের মৌসুমে গ্রামের বাজারে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। শুধু বাজারই নয়, পরিবহন খাতেও দেখা গেছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। যাত্রী বাড়ায় অটোরিকশা, ভ্যানসহ স্থানীয় যানবাহনের চালকদের আয় বেড়েছে। পাশাপাশি কসাই, নাপিত, দর্জি ও মিষ্টি প্রস্তুতকারীরাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শহরের ইট-পাথরের ফ্ল্যাট সংস্কৃতি আর কৃত্রিম নিয়ন আলোর বাইরে গ্রামীণ ঈদ আসে এক ভিন্ন আবহে। দীর্ঘদিনের চেনা প্রতিবেশী আর স্বজনদের মেলবন্ধনে গ্রামে ঈদের আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত পথঘাট আর মা-মাটি-মানুষের টানে তাই সব ভেদাভেদ ভুলে ধনী-দরিদ্র, ব্যবসায়ী-চাকরিজীবী সবাই শামিল হন গ্রামীণ উৎসবে।
ঈদের আনন্দে গ্রামের পরিবেশও এখন উৎসবমুখর। বিকেলে মাঠজুড়ে তরুণদের খেলাধুলা, বন্ধুদের আড্ডা আর শিশুদের কোলাহলে মুখর চারপাশ। গ্রামাঞ্চলে ঈদ উপলক্ষে হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী, গুণীজন সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক মঞ্চায়নের প্রস্তুতি চলছে। সব মিলিয়ে শহর থেকে ফেরা মানুষের পদচারণায় আবহমান বাংলার গ্রামীণ জনপদ ফিরে পেয়েছে তার চেনা রূপ।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি




