আর মাত্র একদিন পর ঈদ। নাড়ির টানে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গাজীপুরসহ রাজধানী ছাড়ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গাজীপুরের প্রায় ৯০ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ায় মহাসড়কগুলোতে শ্রমজীবী মানুষের ঢল নেমেছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।
যাত্রীদের অভিযোগ, মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের কারণে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। এর ওপর নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে গুনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া। বাড়তি ভাড়ার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরের পর অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় শ্রমিকরা একযোগে বাড়ির পথে রওনা হন। এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী ও গাজীপুরা থেকে বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস এবং চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত গাড়ি ধীরগতিতে চলে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পার্কিং, বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও মানুষের জটলার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কবীরপুর থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস এবং সফিপুর থেকে চন্দ্রা অংশেও যানবাহনের চাপ বাড়ায় থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সাইফুল নামে এক যাত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে টঙ্গী থেকে চৌরাস্তা আসতে ৪০ মিনিট লাগে। আজ সেখানে তিন ঘণ্টা লেগেছে।’ বসুমতি পরিবহনের চালক খালেদ জানান, গাবতলী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত আসতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে।
এদিকে পোশাক শ্রমিক লাবু মিয়া অভিযোগ করেন, ‘যেখানে ময়মনসিংহের স্বাভাবিক ভাড়া ২০০ টাকা, আজ সেখানে ৪০০-৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।’ ট্রাকে পরিবার নিয়ে রওনা হওয়া আব্দুল জলিল জানান, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া ও গাদাগাদি এড়াতেই তিনি ট্রাকে উঠেছেন।
দুপুরের দিকে শুরু হওয়া তুমুল বৃষ্টিতে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীরা বেশি কষ্টে পড়েন। ফেরদৌস আলম নামের এক যাত্রী জানান, বৃষ্টির কারণে ট্রাকে যাতায়াত করা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তবে যানজট ও ভোগান্তি কমাতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।’
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ এর সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, এবার ধাপে ধাপে পোশাক কারখানা ছুটি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ কারখানায় বোনাস ও বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। এবার গাজীপুর থেকে প্রায় ২০ লাখ শ্রমজীবী মানুষ বাড়ি ফিরছেন। কারখানা এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আশরাফুল ইসলাম জানান, যানজট নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় ট্রাক বা পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী ওঠাতে নিষেধ করা হচ্ছে। তবে বাড়তি ভাড়ার কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি।

দুপুরে ভোগড়া বাইপাস এলাকার জলাবদ্ধতা ও যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। তিনি বলেন, ‘সড়ক বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানি যেন জমে না থাকে, সেজন্য সিটি করপোরেশনের কর্মীরা তাৎক্ষণিক ড্রেন পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিয়েছেন।’
প্রতিনিধি/একেবি




