সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

কৃষি ব্যাংকের পে-অর্ডার জালিয়াতি, আরেক ব্যবস্থাপকের জড়িত থাকার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

শেয়ার করুন:

কৃষি ব্যাংকের পে-অর্ডার জালিয়াতি, আরেক ব্যবস্থাপকের জড়িত থাকার অভিযোগ

৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা পেঅর্ডার জালিয়াতিতে জড়িত খোদ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় নড়াইলের কালিয়া থানায় ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ব্যবস্থাপক। তবে অনুসন্ধানে উঠে আসে-জালিয়াতিতে এনামুলের সঙ্গে পাশের শাখার আরও এক কর্মকর্তা জড়িত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। 

কালিয়া কৃষি ব্যাংকের সিসিটিভ ফুটেজে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ সকাল ৮টা ৩৯ মিনিট। নড়াইলে কালিয়ায় কৃষি ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা এনামুল কবির তার ডেস্কে বসে ব্যাংকের নথি ছিঁড়ে নিজের হেফাজতে নেন। ২ মিনিট পর ব্যাংকের অন্য একজন তার কক্ষে আসায় তড়িঘড়ি করে ওই নথি নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। ২৪ মিনিট পর আবার নিজ কক্ষে ফিরে আসেন এনামুল।


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনায় এনামুল কবিরকে অভিযুক্ত করে, চলতি মাসের ১৩ তারিখ মামলা করেন নড়াইল কালিয়া শাখার ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল। এজাহারে বলা হয়, ১৫ মার্চ নিজ হেফাজতে থাকা নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারের একটি পাতা সরিয়ে ফেলেন এনামুল। পরে তা তুলে দেন জালিয়াত চক্রের হাতে।

এজাহার অনুযায়ী, ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করতে সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে বিআইডব্লিউটিসি'তে জমা দেওয়া হয় পেঅর্ডারের পাতাটি। পরে বিআইডব্লিউটিসি পেঅর্ডারটি ভাঙিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করতে গেলেই বাধে বিপাত্তি। বেরিয়ে আসে জালিয়াতির তথ্য। কালিয়া শাখাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়।

কালিয়া কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল জানান, পে-অর্ডার জালিয়াতিতে এনামুলের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত বলে এনামুল অভ্যন্তরীণ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের মুখোশ উন্মোচনে থানায় মামলা করা হয়েছে।

ব্যবস্থাপকের বক্তব্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে উঠে আসে এনামুল-ঘনিষ্ঠ রকিবুল ইসলামের, যিনি লোহাগড়া শাখা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক। তার হাতের লেখার সঙ্গে মিলে যায় সরিয়ে ফেলা পেঅর্ডারের পাতার লেখা। তবে লোহাগড়া কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক রকিবুল ইসলাম জালিয়াতিতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।


বিজ্ঞাপন


পে-অর্ডার জালিয়াতি নিয়ে অভিযুক্ত কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা এনামুল কবিরের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও সাড়া দেননি। তার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা চলমান।

নড়াইল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) বলেন, কালিয়া থানায় চলতি মাসের ১৩ তারিখ কালিয়া কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওই ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পে অর্ডার জালিয়াতির ঘটনায় মামলা করেছেন। এটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর