সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

মানবপাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান, শিশুসহ উদ্ধার ৬

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

মানবপাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান, শিশুসহ উদ্ধার ৬

কক্সবাজারের টেকনাফে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে জিম্মি করে রাখা শিশুসহ ছয়জনকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় মানবপাচার চক্রের এক নারী সদস্যকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে মিয়ানমারের এক লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কিয়াট জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক।


বিজ্ঞাপন


উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার যুগল বড়ুয়া (২৮), বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হুসাইন আহম্মেদ (২০), কামাল হোসেন (১৮), আয়েসা (১৬), শুভ তারা (১৪) ও সাদেক (৯)।

র‌্যাব জানায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোদারবিল এলাকায় মো. আলী আজগরের বসতবাড়িতে একটি মানবপাচারকারী চক্র নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকজনকে আটকে রাখে। চক্রটি তাদের সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে জিম্মি করে রেখেছিল।

গোপন সংবাদে রোববার ভোরে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে চক্রের এক সক্রিয় নারী সদস্যকে আটক করা হয়। তবে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।

উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী যুগল বড়ুয়া জানান, গত ২২ মে সকালে উখিয়ার কুতুপালং এলাকা থেকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অটোরিকশাযোগে অপহরণ করে ওই আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অন্যান্য ভুক্তভোগীদেরও বিভিন্ন স্থান থেকে ফুসলিয়ে কিংবা জোরপূর্বক তুলে এনে সেখানে আটকে রাখা হয়।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

রংপুরে কৃষক হত্যাসহ ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় ৭ ডাকাত গ্রেফতার

তিনি আরও জানান, পাচারকারী চক্রটি ভুক্তভোগীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাদের জোরপূর্বক সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কামাল হোসেনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

র‌্যাব জানান, আটক নারীসহ পলাতক সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং সমুদ্রপথে মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িত।

র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক বলেন, আটক নারী ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর