রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

ফায়ার সার্ভিস ব্যর্থ, ৬৮ কিমি নদীপথ খুঁজে মায়ের নিথর দেহ পেলেন মেয়ে

জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম

শেয়ার করুন:

ফায়ার সার্ভিস ব্যর্থ, ৬৮ কিমি নদীপথ খুঁজে মায়ের নিথর দেহ পেলেন মেয়ে

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীতে ঝড়ের কবলে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ডুবে নিখোঁজ নারী শ্রমিক আঙ্গুরি খাতুনের (৪৬) ভাসমান মরদেহ দুদিন পর খুঁজে পেয়েছেন তার স্বজনরা।

শনিবার (২৩ মে) দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জ শহরের জেলখানা এলাকায় যমুনা নদীর মাঝ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আঙ্গুরি খাতুন ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রামের লাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর।  


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার যমুনা নদী পাড়ের হতদরিদ্র অনেক পরিবারের নারী-পুরুষ চরের জমিতে কৃষি মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ সব শ্রমিকেরা প্রতিদিন সকালে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যমুনা নদী পার হয়ে চরে গিয়ে কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২১ মে সকাল ১০ টায় যমুনা নদীর বানিয়াজান ঘাট এলাকায় থেকে ৯ জন নারী শ্রমিক নৌকায় চড়ে উজান মিয়া খোলা চরের দিকে রওনা হন। যাত্রী বোঝাই নৌকাটি নদীর মাঝখানে পৌছলে হঠাৎ করেই ঝড়ে ডুবে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে নৌকার চালক ও ৮ জন নারী শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ সময় আঙ্গুরি খাতুনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিহত আঙ্গুরি খাতুনের মেয়ে লাবনি আক্তার বলেন, যমুনা নদীতে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে শনিবার সকালে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকাযোগে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে যমুনা নদীর ডুবে যাওয়া স্থান থেকে ভাটির দিকে খুঁজতে থাকি মাকে। এক পর্যায়ে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার ভাটির দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের পাশে যমুনা নদীর মাঝে মায়ের মৃতদেহ ভাসতে দেখি। এসময় স্বজনদের সঙ্গে মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে নৌকায় তুলে বাড়িতে ফিরে এসেছি।    

ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, সংবাদ পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে সরকারি ভাবে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর