ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে কীটনাশক পানে রিয়া আক্তার শান্তা (২৫) নামে চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, শান্তাকে নির্যাতন করে হত্যা করার পর মুখে কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের স্বামী সৌদিপ্রবাসী কাউসারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে কসবা থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বিজ্ঞাপন
নিহত শান্তা কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার মেয়ে। একই উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভোল্লাবাড়ি এলাকার কাউসারের সঙ্গে ২০২১ সালে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিমান করে শান্তা কীটনাশক পান করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে স্বামী কাউসার তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শান্তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং কাউসারকে আটক করে।
নিহতের ফুফাতো বোন রিনা বেগম দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই শান্তার দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই ছিল। শান্তা আত্মহত্যা করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে হত্যা করে কীটনাশক খাওয়ানো হয়েছে। শান্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের স্বামী কাউসারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি




