লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে টানা তিনটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, তিনবিঘা করিডোর এলাকায় নতুন করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা এবং ভারতীয় চোরাকারবারীদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির ফাঁকা গুলি- সব মিলিয়ে সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও টহল।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের কলসীর মুখ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি দল আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অমান্য করে জিরো লাইনে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয় রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)।
বিজ্ঞাপন
বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা স্থাপিত খুঁটি তুলে নিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই সীমান্তের তিনবিঘা করিডোর এলাকায় আবারও বাঁশের খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে দহগ্রাম বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে ভারতীয় ১৭৪ বিএসএফের ভীম ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় সার্ভে বিভাগের উপস্থিতিতে শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালায়।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি নিয়ে পানবাড়ি কোম্পানি কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার এসি কৈলাস চন্দ্রের সঙ্গে কথা বললে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করার কথা জানান। পরে বিজিবি খুঁটি অপসারণের দাবি জানালে বিএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে সরাতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ৫১ বিজিবির অধিনায়কের নির্দেশে দহগ্রাম, পানবাড়ি ও আঙ্গরপোতা বিওপি থেকে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। সীমান্তে দুটি এলএমজি নিয়ে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করা হলে শেষ পর্যন্ত খুঁটি স্থাপনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে উভয় পক্ষ অতিরিক্ত সদস্য সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের কলসিমুখ সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় চোরাকারবারীদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের মেইন পিলার-৮০৬ এর প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পশ্চিম গিয়ারপাড়া এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় কাটাতারের বেড়া ছেদ করে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি চোরাকারবারী দলকে বাধা দেয়। সতর্ক করার পরও তারা এগিয়ে এলে টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে গুলির শব্দে চোরাকারবারীরা ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম, অনুপ্রবেশ কিংবা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনবিঘা করিডোরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এমআই




