শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

হাতিয়ায় ৫২ লাখ টাকার গরু বাকিতে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার চেষ্টা, আটক ২

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া (নোয়াখালী)
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

হাতিয়ায় ৫২ লাখ টাকার গরু বাকিতে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার চেষ্টা, আটক ২
প্রতারক মো. বেলাল হোসেন ও মো. রিপন।

সেনানিবাসে গরুর মাংস সরবরাহের পরিচয় দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে হাতিয়ার গরু ব্যবসায়ীদের কাছে। কয়েক দফা লেনদেনের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের পর ৫২ লাখ টাকার গরু বাকিতে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার চেষ্টা করে প্রতারক চক্র। পরে কৌশলে ডেকে এনে চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

একপর্যায়ে প্রতারকচক্র নিজেরাই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাতিয়া থানায় আটক দু’জনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন গরু ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম।

পরে পুলিশ তাদেরকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।

গ্রেফতার প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলার এজবালিয়া ইউনিয়নের মৃত ফারুক হোসেনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রিপন। মামলার অপর আসামি ও চক্রের মূলহোতা কামাল হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে কামাল হোসেনসহ ওই দুই ব্যক্তি হাতিয়া বাজারে গরু কিনতে আসেন। তারা নিজেদের ঢাকা সেনানিবাসে গরুর মাংস সরবরাহকারী হিসেবে পরিচয় দেন। প্রথম দিন এক ট্রাক গরু কিনে নিয়ে যান। পরে ১৬ মে আবার এসে দুই ট্রাক গরু কেনেন। ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের জন্য কিছু গরু বাকিতে নিয়ে পরদিন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধও করেন তারা।


বিজ্ঞাপন


এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী সাতজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকার গরু কিনে ব্যাংকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে চলে যান। কিন্তু পরদিন থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নানা অজুহাত ও তালবাহানা শুরু করেন তারা।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা নতুন করে গরু দেওয়ার কথা বলে চক্রের সদস্যদের আবার হাতিয়া বাজারে কৌশলে ডেকে এনে আটক করা হয়। 

মামলার বাদী গরু ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম বলেন, পুরো ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণা। শুরুতে বাকিতে গরু নিয়ে সময়মতো টাকা পরিশোধ করে আমাদের বিশ্বাস অর্জন করে তারা। পরে বড় অঙ্কের টাকা মেরে দেওয়ার উদ্দেশেই এই নাটক সাজানো হয়। সেনানিবাসে মাংস সরবরাহের কথা বলায় আমরা সহজেই বিশ্বাস করেছিলাম।

তিনি আরও জানান, তিনি ছাড়াও আরও ছয়জন ব্যবসায়ী এই চক্রের কাছে মোট ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পাবেন। প্রতারিত ব্যবসায়ীদের বাড়ি হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে। তারা মূল ভূখণ্ড থেকে গরু কিনে এনে হরনী ইউনিয়নের হাতিয়া বাজারে বিক্রি করেন। হাতিয়া বাজার এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গরুর বাজার হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এখানে গরু কিনতে আসেন।

এ বিষয়ে মো. কবির হোসেন বলেন, প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। চক্রের মূলহোতা কামাল হোসেন এখনো পলাতক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি সোনাইমুড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর