শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

রংপুরে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ১২:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

রংপুরে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

রংপুরে কয়েকঘন্টার টানা বৃষ্টিতে নগরীর কয়েকটি সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পরেছে ওইসব এলাকার মানুষ। শ্যামা সুন্দরী খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। 

শুক্রবার (২২ মে) সকাল পর্যন্ত মহানগরীতে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতেই নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শ্যামা সুন্দরী খালের বেহাল দশা ফুটে ওঠেছে চরমভাবে। 


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর খামার মোড় এলাকা, বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ এবং পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, স্টেশন এলাকা, লালবাগ রোড, দর্শনাসহ অন্তত ২০ এলাকায় সড়কে হাঁটু পানি জমে আছে। এছাড়াও নগরীর রবাটসন্সগঞ্জ, তাতিপাড়া, নীলকন্ঠ সোটাপীর, শান্তিবাগসহ প্রায় ৫০ টি নিম্নাঞ্চল এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। 

এছাড়াও রাস্তার অনেক জায়গায় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে রাস্তায় চলে আসায় দূগন্ধের কারনে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ময়লা পানি দিয়েই চলাচল করছেন। আবার অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে পরেছে। কারো কারো বিছানা পর্যন্ত পানি ওঠেছে। এমন অবর্ণনীয় দূর্ভোগে পরেছে এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষজন। 

নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সিটি কর্পোরেশন একের পর এক রাস্তা নির্মাণ করেছে, কোথাও কোথাও অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করেছে। আবার অনেক স্থানে পানি নিস্কানের কোন ব্যবস্থা নেই। আবার কোথায় ড্রেন থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার বা সংস্কার করা হয় না। ফলে অল্প বৃষ্টিতে ভরে যাচ্ছে ওসব এলাকা। আবার কোথাও বৃষ্টির পানি নেমে যেতে না পারায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। 

অন্যদিকে রংপুর নগরীর ফুসফুসে খ্যাত শ্যামাসুন্দরী খালের বেহাল অবস্থা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নগরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কার নিয়ে দাবী উঠলেও সম্প্রতি শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কার শুরু হলেও ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে সংস্কার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কার না হওয়ায় পানি নিস্কাশন হচ্ছে না, যার কারনে নগরীর নিম্নাঞ্চলের পানি সময় মতো নেমে যেতে না পারায় জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। এই জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জন্য চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


নগরীর নীলকণ্ঠ সোটাপীর এলাকার ফজলার রহমান জানান, এই এলাকায় কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই। যার কারনে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাসহ এলাকায় পানি জমে যায়। রাস্তায় চলাচল করা যেমন কষ্টের তেমনি বাড়িতে পানি ওঠায় বসবাস অনুপযোগী হয়েছে। এলাকার এই সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। অনেক চেষ্টা করেও কোন সমাধান হচ্ছে না। 

আবহাওয়া অফিস এলাকার রমিজ আলম জানান, এই এলাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি ওঠে। অথচ এই এলাকায় বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে, রাস্তা হয়েছে, কিন্তু কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। যার কারনে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যাচ্ছে। এলাকার ময়লা আবর্জনা রাস্তার উপর ভেসে বেড়াচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যদিয়ে আমাদের চলাচল করা লাগতেছে। 

চারতলা মোড় কলোনির বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম  অভিযোগ করে বলেন, নগরীর মধ্যে পরিকল্পনাহীনভাবে বাড়িঘর নির্মাণ হচ্ছে, অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। পানি হলে ড্রেন থাকে পানির নিচে। আবার কোথায় ড্রেন থাকলে পরিস্কারের কোন নাম নেই। যার কারনে ময়লা-আবর্জনায় ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে আছে। তাহলে পানি যাবে কোথায়? এসব দেখার যেন কেউ নাই। 

রফিকুল ইসলাম বলেন, বাবুখাঁ এলাকায় কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছি। প্রতি বছরই বৃষ্টির মৌসুমে আমাদের এলাকা ডুবে যায়। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা শুধু ড্রেন নির্মাণ ও পরিষ্কারের আশ্বাস দেয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। এভাবেই বছরের পর বছর চলছে। আমাদের কষ্টের কথা কেউ ভাবে না। নেতারা শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করেন। 

এ বিষয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসানকে একাধিকবার ফোন দিয়েও ফোন রিসিভ করেননি তিনি। তবে সিটির প্রশাসক এডেভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, সড়কে ও নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে। এসময় তিনি শ্যামাসুন্দরী খাল খননে নিয়মমাফিক বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। 

এদিকে রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মহানগরীতে গত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন বৃষ্টিপাত আরো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর