বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ঢাকা

চাঁদপুরে সড়কের কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০৬:১৩ এএম

শেয়ার করুন:

চাঁদপুরে সড়কের কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের মাছুয়াখাল-চারটভাঙা এবং খর্গপুর থেকে মেহরন দালাল বাড়ি পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ ফেলে দীর্ঘ চার বছর ধরে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। ফলে ওই এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ বলছে, বারবার সময় ও চিঠি দিয়েও ঠিকাদারকে পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুতই তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি আগে ইটের তৈরি (হেরিং বোন বন্ড) ছিল। ২০২৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি পাকাকরণের জন্য ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দে দুই ভাগে কাজ শুরু করে। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স মতলব ট্রেডিং', যার স্বত্বাধিকারী মোফাজ্জল হোসেন। ২০২৩ সালের ২ মে প্রতিষ্ঠানটিকে ওয়ার্ক অর্ডার (কার্যাদেশ) দেওয়া হলেও কাজ আংশিক শুরু করে অজ্ঞাত কারণে তারা উধাও হয়ে যায়।


বিজ্ঞাপন


গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী মেহরন দালাল বাড়ির মন্দিরে আসেন বহু পুণ্যার্থী। রাস্তার বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কৃষকদের ফসল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চালকরাও এই সড়কে যানবাহন চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শোয়েব প্রধান ও জব্বার পাঠান বলেন, ‘সড়কটি আগে ইটের ছিল, তখনো চলাচল করা যেত। কিন্তু পাকাকরণের নামে খোঁড়াখুঁড়ি করে চার বছর ধরে ঠিকাদার লাপাত্তা। কান্দিরপাড়, চারটভাঙা, মেহরন ও কাজিয়ারাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত এখন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।’

কৃষক মোহাম্মদ আলী ও অটোরিকশা চালক ইদ্রিস জানান, বেহাল রাস্তার কারণে যেমন মাঠের ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে না, তেমনি প্রতিনিয়ত যানবাহন বিকল হয়ে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ভোটের সময় অনেকে সড়কটি করে দেওয়ার ওয়াদা করলেও এখন কেউ খোঁজ নেন না।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা কার্যালয় থেকে ঠিকাদারকে বহুবার চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করানো যাচ্ছে না। তাকে শেষবারের মতো নোটিশ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে না পাওয়া গেলে নিয়মানুসারে চুক্তি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


বিজ্ঞাপন


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর