রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ঢাকা

চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

চট্টগ্রামে মুছে ফেলা গ্রাফিতি পুনরায় আঁকতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রঙের কৌটা নিয়ে টানাটানির একপর্যায়ে রং ছিটকে পড়ে গ্রাফিতি অঙ্কনকারী তরুণ-তরুণী ও পুলিশ সদস্যদের শরীর রঙিন হয়ে ওঠে। পুলিশ এ সময় তিনজনকে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দিয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) বেলা পৌনে দুইটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর টাইগারপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে গত রোববার সন্ধ্যায় একই এলাকায় 'জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি' পালন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতা-কর্মীরা।


বিজ্ঞাপন


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দাবি করে মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তারা। এনসিপির নেতা-কর্মীরা চসিক কার্যালয়ের প্রবেশমুখের সামনে অবস্থান নিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও পাল্টা অবস্থান নেন। এরপর উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

রোববারের ঘটনার পর সোমবার সকালে নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সিএমপির এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বেলা পৌনে দুইটার দিকে টাইগারপাসে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে গ্রাফিতি আঁকার জন্য জড়ো হন একদল তরুণ-তরুণী। তাঁরা নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী ও 'জুলাইযোদ্ধা' পরিচয় দেন। তাঁরা গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে রঙের কৌটা নিয়ে ধস্তাধস্তির সময় পুলিশ সদস্য ও তরুণ-তরুণীদের গায়ে রং ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাকি তরুণ-তরুণীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে আটকের প্রতিবাদে সড়কের ওপর বসে পড়েন কয়েকজন।


বিজ্ঞাপন


এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল, তবে পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মীর মোহাম্মদ সেলিম বলেন, একদল তরুণ-তরুণী গ্রাফিতি অঙ্কন করতে এসেছিলেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে সামান্য ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর রং ছিটকে পড়েছে।

পুলিশ জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করা তরুণ-তরুণীরা এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে নগর এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আজ টাইগারপাসে এনসিপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকতে গিয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়েছে। রঙের কৌটা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে টানাটানির সময় দুই পক্ষের গায়ে রং পড়েছে, ইচ্ছা করে কেউ রং ছুড়ে মারেনি।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ৫ আগস্ট স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এখন আবার নতুন করে সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। গ্রাফিতিগুলো কেবল দেয়ালচিত্র নয়; বরং আন্দোলনের স্মৃতি, তরুণদের প্রতিবাদ এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। তাই এতে বাধা দেওয়া সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর