নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আতর আলী নামে এক যুবককে আটক করে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
রোববার (১৭ মে) ভোররাতে জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিন দুপুরে ঘটনার খবর ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
আটক ব্যক্তিরা হলেন ওই গ্রামের প্রবাসী রেজাউল আলীর স্ত্রী মনিরা বেগম এবং একই গ্রামের আতর আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মনিরা বেগমের সঙ্গে আতর আলীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোররাতে মনিরা বেগমের শয়নকক্ষে আতর আলী প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী চারদিক থেকে ঘরটি ঘেরাও করে। পরে ঘরের মাচার নিচ থেকে আতর আলীকে এবং শয়নকক্ষ থেকে মনিরা বেগমকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটকের পর উত্তেজিত গ্রামবাসী তাদের দু'জনকে ঘর থেকে বের করে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মনিরা বেগমের মাথার চুল কেটে দেওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় তিনি আকুতি জানান এবং প্রশ্ন তোলেন, অন্যায় করে থাকলে প্রশাসন বিচার করবে, কিন্তু আমার চুল কাটা হবে কেন?
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা ও চুল কাটার চেষ্টাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে ঘটনার খবর ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই ঘটনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




