রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঈদ-গ্রীষ্মের ছুটিতে ৭ দিন পাঠদান করতে চিঠি, সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদ-গ্রীষ্মের ছুটিতে ৭ দিন পাঠদান করতে চিঠি, সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ১৪ দিন ছুটি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মাদারীপুরে ঘটল ভিন্ন চিত্র। ১৪ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন ছুটি কাটানোর জন্য চিঠি দেয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বাকি ৭ দিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নিয়ে শুরু হয় জেলাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক। যদিও সমালোচনার মুখে চিঠি প্রত্যাহার করে পাল্টা নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ২৪ মে থেকে ৪ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এরপর আরো দুইদিন শুক্র ও শনিবারের ছুটিসহ মোট ১৪ দিনের ছুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ভোগ করার কথা। কিন্তু, ছুটি ভোগ করার আগেই গত ১৪ মে মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেন।


বিজ্ঞাপন


সেখানে বলা হয়, ১৪ দিনের সরকারি ছুটির পরিবর্তে বিদ্যালয় খোলা রেখে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ৭ দিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিতে হবে। বিদ্যালয়সহ দুর্বল শিক্ষার্থীদের তালিকা রিপোর্ট আকারে তৈরি করে ১৮ মে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাতে হবে।

চিঠি পাওয়ার পরপরই পুরো জেলাজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। ফেসবুকেও ওঠে সঙ্গে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রোশের শামিল হিসেবে দেখেন। পরে সমালোচনার মুখে গত ১৫ মে শুক্রবার বন্ধের দিনে আরেকটি চিটি করেন ওই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। সেখানে পূর্বের চিঠি বাতিল করা হয়। বিষয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

9bf53368-27d5-4f68-b8f4-5271b149412c

সচেতন মহল বলছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে অনেক বানান ভুল। যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল মনে করছেন সুধীজনরা। দায়িত্বহীনতার কারণে ঘটেছে এমন ঘটনা। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী এভাবে শিক্ষকদের সরকারি ছুটি ভোগ করতে বাধা প্রদান করতে পারেন না। এটি একটি অন্যায় এবং গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

যশোর সংস্কৃতির আতুর ঘর, পাঠাগারমুখী করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেব: মন্ত্রী

নাম না প্রকাশে একাধিক সহকারী শিক্ষক বলেন, আমরা সরকারি নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এভাবে চিঠি দিয়ে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে বলতে পারেন না। যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ছুটিতে থাকবে, সেখানে এমন চিঠি দিয়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

f048bf3b-5964-4077-9093-28e52dc6bea4

এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় পাঠদান নিতে বলা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হওয়ায় চিঠির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। মূলত শিক্ষা অধিদফতর থেকে দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান নিতে বলা হয়েছিল। এর পরপরই চিঠি দেয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। কিন্তু শিক্ষকরা এই আদেশ মেনে নিতে পারবে না, সেটি বুঝতে পারিনি। তাহলে এভাবে চিঠি করতাম না।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার বলেন, ১৪ দিনের পরিবর্তে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছুটি ৭ দিন ভোগ করার চিঠির বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। এরপর আরো একটি চিঠি দিয়ে পূর্বের চিঠি বাতিল করে জেলা অফিস। কেন এমন ঘটনা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর