শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রসূতির মৃত্যু, দায়ীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নেই’

ভুল চিকিৎসায় ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকার প্রসূতি নাঈমা আক্তার লিজার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিহতের পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়।

এতে বক্তব্য দেন লিজার বাবা মোহাম্মদ নুর করিম, ভাই ইয়াছিন আরাফাত রুবেল, স্বজন জুলিয়া আক্তার, তাহমিনা আক্তার, রিয়াদ, সবুজ, স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন, মো. আজাদ, বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।


বিজ্ঞাপন


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১০ এপ্রিল নাঈমা আক্তার লিজা প্রসব ব্যথা নিয়ে ফেনী ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেদিন রাতে তার সিজারিয়ান অপারেশন হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরদিন সকালে নবজাতক রেখে লিজাকে ‘ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে’ পাঠায় ওয়ান স্টোপস কর্তৃপক্ষ। সেখানে চার ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে রাখার পর বিকেলে তাকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে গাড়িতেই মৃত্যু হয় লিজার। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও চিকিৎসায় গাফিলতির প্রমাণ মিললেও এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। থানায় মামলা করা হলেও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। এজন্য বাধ্য হয়ে আমরা আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি করছি।

নিহত লিজার বাবা মোহাম্মদ নুর করিম বলেন, ভুল চিকিৎসা আর অবহেলার কারণে আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। এক মাস আগে মামলা করলেও জড়িত চিকিৎসক বা অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুনেছি আসামিরা আগেই জামিন নিয়ে গেছে। এভাবে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে আবারও কোনো মা-বাবাকে সন্তান হারাতে হতে পারে।

জুলিয়া আক্তার নামে নিহতের আরেক স্বজন বলেন, এ ঘটনায় মামলা করার পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। একজন জীবন্ত মানুষকে মেরে ফেললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। লিজার ছোট ছোট দুই সন্তান মাকে হারিয়েছে। আমরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দিশেহারা। আমরা শুধু দোষীদের বিচার চাই।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রাথমিক ও চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে ঘটনাটিকে চিকিৎসায় গুরুতর গাফিলতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারিত চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাতেও ঘাটতি ছিল। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


বিজ্ঞাপন


তদন্তে আরও উঠে আসে, সদর উপজেলার ছনুয়া ও মোটবী ইউনিয়নের দুই পরিবার পরিকল্পনা কর্মী গীতা রানী দাসসহ অপর একজন রোগীকে সরকারি হাসপাতালে না পাঠিয়ে সরাসরি ওই ক্লিনিকে নিয়ে আসেন, যা নীতিবিরোধী। তাদের বিরুদ্ধে রোগীদের আল্ট্রাসাউন্ড ও অ্যান্টিবায়োটিক পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগও মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার পর তাকে অন্য ক্লিনিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির লাইসেন্স, অপারেশন থিয়েটারের মান এবং চিকিৎসা সরঞ্জামেরও অপর্যাপ্ততা রয়েছে।

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর