লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত নরসিংদীর শিবপুরের করিম মিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে দ্রুত লাশ ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় বন্ধুর সঙ্গে অবস্থানকালে ড্রোন হামলার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই করিম মিয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
করিম মিয়া জেলার শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের হরনখোলা গ্রামের কাজম আলীর ছেলে। এবং দুই সন্তানের জনক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমান করিম। সেখানে তিনি একটি মুদির দোকানে চাকরি করতেন। স্ত্রী শারীফা বেগম, ছেলে আব্দুর রহিম (১৩) এবং ১৮ মাসের মেয়ে নুসরাতকে নিয়ে তিন সদস্যের পরিবার তার উপার্জনের টাকায় চলতো।
নিহতের স্ত্রী শরীফা বেগম বলেন, রোববার রাতে ফোনে ওনার সঙ্গে শেষ কথা হয়। আমাকে বলছিলেন, ওখানে খুব যুদ্ধ চলার কারণে তার মন-মেজাজ খুব একটা ভাল না। যুদ্ধের কারণে উনি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আমি ওনারে বারবার সাবধানে থাকতে বলছিলাম।
তখন উনি সান্ত্বনা দিয়া বললেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ থামব, তুমি টেনশন কইরো না। যুদ্ধ থেমে যাবে জানিয়ে তিনি নিজেই চিরতরে থেমে গেলেন।’
বিজ্ঞাপন
এখন আমাদের কী হবে? আমরা শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতে চাই, সরকার যেন লাশটা এনে দেয়।
নিহতের বড় ভাই শরিফ মিয়া বলেন, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় ১২ বছর আগে লেবাননে গিয়েছিল আমার ভাই। তার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পরিবার। সেখানে বসবাসরত পরিচিত প্রবাসীদের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। মরদেহ কোথায় আছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি জানতে চাইলে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াছমিন বলেন, করিম মিয়া নিহতের বিষয়টি এখনও সরকারিভাবে আমার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ অবহিত করেননি।
প্রতিনিধি/টিবি




