নওগাঁয় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। ঈদের দুই সপ্তাহের বেশি বাকি থাকায় নওগাঁর পশুরহাটগুলো এখনও জমে ওঠেনি। এজন্য খামারগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে এবছর পশু-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশু লালনপালনে খরচ বেশি হওয়া অন্যদিকে বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা এই দ্বিমুখী চাপে রয়েছেন খামারিরা। এছাড়া সীমান্তবর্তী জেলা হওযায় সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গরু প্রবেশও ভাবিয়ে তুলছে খামারিদের।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ১১টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৯০৯ জন খামারি প্রায় ৮ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া লালন-পালন করেছেন। জেলায় চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার পশুর। উদ্বৃদ্ধ ৪ লাখ ১০ হাজার ৬৭৮টি গবাদিপশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হবে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে বেশকিছু খামারে দেখা গেছে, কোরবানি সামনে রেখে এ বছর দেশি ও শাহীওয়ালসহ বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। গরুকে নিয়মিত গোসল করানো, সময় মতো খাবার দেওয়া, ঘর পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ততা কাটছে মালিক-কর্মচারীদের। কোনো রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণে নিচ্ছেন বাড়তি যত্ন। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
খামারিরা জানান, গত ৩ মাসের ব্যবধানে দানাদার খাবারের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও কারণে হাটে গরু পরিবহন খরচও বাড়বে। সে অনুপাতে পশুর দাম না বাড়ায় সারা বছরের খরচ সমন্বয় আর ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা খামারিদের।
সদর উপজেলার বর্ষাইল এলাকার খামারি একরামুল হাসান বলেন, খামারে ১০৬টি গরু আছে। যার অধিকাংশ শাহীওয়াল। প্রতিটি গরুর দাম দেড় লাখ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ছাগল আছে ৩১টি। তিনবেলা নিয়ম করে আটা, ভুষি, খৈল, খড় ও ঘাস খাবার দিতে হয়। বাজারে দানাদার খাবারের দাম ঊর্ধ্বগতি। এতে পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
আরেক খামারি উজ্জল হোসেন বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ৫-৭টি গরু লালন-পালন করা হয়। এ বছর ৫টি গরু পালন করা হচ্ছে। গত ৩ মাসের ব্যবধানে দানাদার খাবারের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) খুদের দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। বর্তমানে ২ হাজার টাকা হয়েছে। ১ হাজার ৭০০ টাকার ব্যান্ড বর্তমানে ২ হাজার ২০০ টাকা। ৮০০ টাকার ফিড বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকা বস্তা। একে তো এভাবে খাবারের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে আমাদের মতো ছোট খামারিদের লোকসানে পড়তে হবে।
আরজি নওগাঁ এলাকার খামারি সাইফুর রহমান বলেন, এবার গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গবাদিপশু পালনে খরচ বেড়েছে। প্রতিবছর কোরবানি উপলক্ষে ২০ থেকে ৩০টি গরু প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও এসব গরু দেখাশুনার জন্য কাজের মানুষ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবছর গরু লালন-পালনে খরচ অনেক বেশি।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ সীমান্তবর্তী জেলা। তাই একটা ভয় থেকেই যায় ভারতীয় গরু প্রবেশের। সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ করলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পশু ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন তিনি।
নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ট্রেনিং অফিসার ডা. গৌরাংগ কুমার তালুকদার বলেন, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু লালন-পালনে খামারিদের খরচ কমাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে পশু সুস্থ থাকার পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছে আগ্রহ বাড়বে এবং খামারিরাও লাভবান হবেন। এছাড়াও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু যাতে প্রবেশ করতে না পারে এ জন্য প্রশাসন ও বিজিবির সঙ্গে আমরা সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
প্রতিনিধি/টিবি




