যশোরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আজ সোমবার বিকেল ৪টায় শেষ হয়। দুই দিনের অভিযানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ প্রায় ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, যশোর উপশহর হাউজিং এস্টেটের সরকারি জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। দখলদারদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা জমি ছেড়ে না যাওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ গত শনিবার এলাকায় মাইকিং করে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
রোববার সকালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে শহরের বাবলাতলা এলাকায় অভিযান শুরু হয়। সেখানে একটি বাড়ি ভেঙে ফেলার পর গাবতলা মোড় ও বি-ব্লক বাজার এলাকায় রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা ও আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় দুটি বাড়ি, উপশহর পার্কের সামনে আওয়ামী লীগের আরও একটি কার্যালয় এবং সংলগ্ন আমতলা বস্তির দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ও দুটি কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
সোমবার উপশহর, হাইকোর্ট মোড় ও ঢাকা রোডসহ বিভিন্ন ব্লকে অভিযান চলে। বিকেলে হাইকোর্ট মোড়ে বিএনপির একটি স্থানীয় কার্যালয়সহ ছোট-বড় আরও দুই শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে উচ্ছেদ হওয়া অনেক পরিবার অভিযোগ করেছে, তারা কোনো পূর্ব নোটিশ পায়নি। তাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তারা সেখানে বসবাসের সুযোগ পেয়েছিলেন। হঠাৎ এই অভিযানে শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বারবার নোটিশ ও মাইকিং করার পরও দখলদাররা জমি ছাড়েননি। নানা টালবাহানা করায় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে। দুই দিনের অভিযানে প্রায় ৫ একর জমি উদ্ধার হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।’ জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
অভিযানকালে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/একেবি




