ফরিদপুরে টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রি এবং জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুটি ধারায় মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী পলাতক ছিলেন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে।
বিজ্ঞাপন
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আদল কাজীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া একই আইনের ১১ ধারায় তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল।
খবর পেয়ে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র্যাব-৮ এর একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার এবং আদল কাজীকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় র্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসাদ কুমার চাকী ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদল কাজী একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সদস্য।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে সচেতনতা বাড়াবে এবং মানবপাচারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে।’
প্রতিনিধি/একেবি




