সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

‘ঘর ভাঙে পড়লি পাশের বাড়ি যায়ে উঠি ওঁরা আমাগে রাতি থাকতি দেছে’

জেলা প্রতিনিধি, নাড়ইল
প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

শেয়ার করুন:

‘ঘর ভাঙে পড়লি পাশের বাড়ি যায়ে উঠি ওঁরা আমাগে রাতি থাকতি দেছে’

‘ঘর ভেঙে পড়লি, দুই সন্তান কোলে করে দৌড় মারি, পাশের বাড়ি যায়ে উঠি। ওরা আমাগে রাতি থাকতি দেছে। কিন্তু এহন আমরা কই যাব? এক ঝাপটায় সব শেষ। বাঁচে আছি এইটুক বেশি। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এহন কই যাব? ঘর যে বানাবো সেই সামর্থ্য তো নাই। বড় কষ্টে পড়ছি আমরা।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তালেশ্বর গ্রামের মিঠুন বিশ্বাসের স্ত্রী মৌহা বিশ্বাস। অভাবের সংসারে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মাঠে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান এ দম্পতি।

গত শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে যায় ঘরের চালা। গাছ ভেঙে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায় পুরো ঘর। পুরোনো টিনের জরাজীর্ণ ঘরে জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন তারা।


বিজ্ঞাপন


image

রবিবার (১০ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌহা বিশ্বাস তার স্বামীকে নিয়ে ঝড়ে উড়ে যাওয়া ঘরের টিন বাড়ির সামনে থেকে তুলে আনছেন। ঘরে পড়ে থাকা বিশাল আকৃতির রেন্টি গাছ স্থানীয়রা কেটে সরিয়ে দিতে সহায়তা করছেন। ঘরের টিনগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। দুমড়ে-মুচড়ে পড়া টিন পিটিয়ে সোজা করা হচ্ছে। ঘরটি কোনো রকম তোলা যায় কি না, সেই চেষ্টা তাদের।

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উড়ে যাওয়া ঘর দেখতে ছুটে এসেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘরের ওপর পড়ে থাকা গাছ কেটে সহায়তা করছেন তারা। উড়ে যাওয়া টিনের চালা এগিয়েও দিচ্ছেন অনেকে। তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ইকরামুল বিশ্বাস বলেন, ঝড়ে ঘর উড়ে যাওয়ার কথা শুনে দেখতে এসেছি। অনেক কষ্টের সংসার তাদের। মিঠুনের যখন দুই বছর বয়স তখন তার বাবা তাকে ও তার মাকে রেখে চলে যায়। সেই থেকে অভাব পিছু ছাড়েনি, মা এখন অসুস্থ। বউ-বাচ্চা নিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে তার। ঝড়ে যা ক্ষতি হলো তা পুষিয়ে নেওয়া দায়।

image


বিজ্ঞাপন


মৌহা বিশ্বাসের স্বামী মিঠুন বিশ্বাস বলেন, সারাদিনের কাজ শেষ করে বারান্দায় এসে কেবল একটু বসলাম। হঠাৎ ঝড় এসে উড়িয়ে নিয়ে যায় ঘরের চাল। এদিকে ঘরের পিছনের রেন্টি গাছ এসে ভেঙে পড়ে ঘরের ওপর। অভাবের সংসার আমার, মা অসুস্থ। যা আয় হয় খেয়ে-পড়ে জীবন বাঁচানো দায়। ভাঙাচোরা ঘরটিতে বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকতাম। ঝড়ে যা করে দিয়ে গেল, এহন আমরা কই যাব? সরকার যদি আমাদের একটু সাহায্য করত, ঘর করে বউ-বাচ্চা নিয়ে বাঁচতে পারতাম।

এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) টি.এম. রাহসিন কবীর বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মৌহা বিশ্বাসের পরিবার আবেদন করলে সরকারি নিয়মে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর