নড়াইলের সদর উপজেলার পঙ্কবিলা গ্রাম এখন জেলাজুড়ে ‘লিচুর গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙিনা এখন উৎসবের সাজে নয়, বরং থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা রসালো লিচুর লাল আভায় রাঙানো। আগাম জাতের লিচু চাষ করে এ গ্রামের মানুষ শুধু স্বাবলম্বীই হননি, পুরো জেলায় ছড়িয়ে দিয়েছেন আধুনিক ও বাণিজ্যিক কৃষি চাষের এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
নড়াইল শহর থেকে খুব একটা দূরে নয় এই পঙ্কবিলা গ্রাম। গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সারি সারি লিচু বাগান। প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, পুকুর পাড় কিংবা রাস্তার ধারে সর্বত্রই এখন শোভা পাচ্ছে লাল রঙের রসালো লিচু। বাতাসে দুলছে কৃষকের রক্তঘাম করা স্বপ্ন।
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় চাষি ও এলাকাবাসী জানান, পঙ্কবিলা গ্রামের বিশেষত্ব হলো এখানকার লিচু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আগেই পেকে বাজারে আসে। বাজারে সবার আগে সরবরাহ করা যায় বলে দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়। এখানকার কৃষকদের সাফল্য দেখে এখন আশপাশের গ্রামগুলোতেও লিচু বাগান করার ধুম পড়েছে। আগাম জাতের হওয়ার কারণে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকেই শুরু হয় লিচু ভাঙার কাজ। বাগান থেকে তোলা লিচুগুলো প্রসেসিং করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। প্রতিদিন একেকটি বাগান থেকে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিচু ভাঙা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাগান থেকে প্রতি হাজার লিচু ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায় কেনা হচ্ছে, যা বাইরে বাজারে ২০০০ থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা পঙ্কবিলায় ভিড় জমাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন

বাগান মালিক মো. বিল্লাল হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এ বছর ভালো লাভের আশা করছেন তারা। এদিকে ব্যবসায়ীরাও বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই আগাম লিচুর দাম সন্তোষজনক রয়েছে। বর্তমানে দেশি লিচু প্রতি শত বাগান থেকে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা চাষিদের জন্য ইতিবাচক দিক।
পঙ্কবিলা গ্রামের লিচু চাষিদের এই নীরব বিপ্লব নড়াইলের ব্র্যান্ডিংকে আরও সমৃদ্ধ করছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নত হিমাগারের ব্যবস্থা থাকলে এই লিচু বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, নড়াইল সদরের পঙ্কবিলা গ্রাম এখন ‘লিচুর গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ৪১ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হচ্ছে। মূলত আগাম জাতের লিচু চাষ করে এ গ্রামের বাসিন্দারা তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। তাদের সাফল্য দেখে বাণিজ্যিক চাষ আরও ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা চাষিদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছি।
প্রতিনিধি/টিবি




