বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয়, সচেতন থাকতে হবে: ইশরাক

জেলা প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬, ০২:২৪ এএম

শেয়ার করুন:

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয়, সচেতন থাকতে হবে: ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের ভিত্তি—এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং সমগ্র জাতির সম্পদ। ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, তারা ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে।

তিনি অভিযোগ করেন, পরাজিত সেই শক্তি এখনো সক্রিয় এবং বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃত ইতিহাস সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে অনেকেই সুবিধা নিয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।


বিজ্ঞাপন


২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনীয় নয়। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সশস্ত্র যুদ্ধ, আর সাম্প্রতিক আন্দোলন ছিল গণআন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তার বাবার কাছ থেকে শোনা তথ্যমতে তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণায় জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তবে দীর্ঘদিন তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বীর নিবাস প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করা হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। জটিল রোগের চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুবের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু, জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক মহসিন মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম পিন্টু, জেলা বিএনপি নেতা প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন, সাবেক ভিপি রফিকুল ইসলাম মাসুমসহ দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

এসটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর