সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

গণপিটুনিতে নিহত দবিরের পরিচয় শনাক্ত, গণমাধ্যমের ছবি দেখে চিনল পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

গণপিটুনিতে নিহত দবিরের পরিচয় শনাক্ত, গণমাধ্যমের ছবি দেখে চিনল পরিবার

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে ‘চোর সন্দেহে’ গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে নিহতের স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। নিহত ব্যক্তির নাম দবির মুনশি (৪০)। তিনি জাজিরা উপজেলার মুনশিকান্দি এলাকার বাসিন্দা।

সোমবার সকালে নিহতের স্ত্রী পালং মডেল থানায় এসে ছবিতে নিজের স্বামীকে শনাক্ত করেন। পরে বিকেলে নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ দবির মুনশির পরিচয় নিশ্চিত করে।


বিজ্ঞাপন


পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, দবির মুনশির মীম আক্তার (২৪) ও সুমাইয়া আক্তার (১৬) নামে দুটি মেয়ে রয়েছে। তার স্ত্রী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, দবির মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতেন।

ওসি আরও জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত ভ্যান চুরির সন্দেহে স্থানীয়রা তাকে আটক করে মারধর করে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কয়েক দফা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলেও দবিরের পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির সূত্র ধরেই পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করেন। বর্তমানে মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার সকালে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিহতের ভাতিজা শিহাব হোসেন সজিব জানান, ‘আমার চাচা কিছুটা ভবঘুরে ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে ১০-১৫ দিন বাড়ির বাইরে থাকতেন। মানুষের সাহায্য নিয়ে চলতেন, তবে তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন।’


বিজ্ঞাপন


সজিব আরও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘তিনি চুরি করার মতো মানুষ ছিলেন না। মাদক সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।’ পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।

গত শুক্রবার ভোরে আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিঙ্গাইরা এলাকায় ভ্যানচালক ইমান আলী মোল্যার বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা দবিরকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় শনিবার রাতে কামাল চৌকিদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর