সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

Drop dhakamail
ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র-ডর্‌প এর উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি: ঢাকা মেইল

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সকল স্তরের তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার (৪ মে) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র-ডর্‌প এর উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। 

মানববন্ধনে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তামাক বিরোধী কর্মী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


বিজ্ঞাপন


মানববন্ধনে ডর্‌প-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জেবা আফরোজা বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চ-এই চার স্তরের সিগারেট বিদ্যমান; এর মধ্যে বাজারে বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা সহজলভ্য হওয়ায় যুবসমাজকে দ্রুত আসক্ত করে তুলছে। তাই আসন্ন অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা, ও অতি উচ্চ স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে। তামাকপণ্যে এই কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনকভাবে সর্বোচ্চ-৩৫.৩ শতাংশ। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে, যা একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দেয়। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই ক্ষতি কমাতে তামাক খাতকে কেবল রাজস্ব আয়ের চশমা দিয়ে না দেখে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিকল্প নেই। 

মানববন্ধনে বিড়ি শ্রমিকরা দাবি জানান, বাজারে চাল-ডাল, তেল-নুন-সবকিছুর দামই বাড়ছে, কিন্তু বিড়ি-সিগারেটের দাম তেমন বাড়ে না, তাই এগুলো এখনো সবার, বিশেষ করে তরুণ আর আমাদের মতো কম আয়ের মানুষের হাতের নাগালেই রয়ে গেছে। এই জন্য তামাক খাওয়াও কমছে না, বরং আরও বাড়ছে। আমরা নিজেরাও এই মরণঘাতী কাজ করতে চাই না। নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি-তামাকপণ্যের দাম বাড়ান, আর আমাদের মতো বিড়ি শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করেন।


বিজ্ঞাপন


বিইউ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর