চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় আমানত ফেরত ও হেয়ার কাট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। এ সময় এক্সিম ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা।
সোমবার (৪ মে) বেলা ১১টা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে কয়েকশ আমানতকারী অংশ নেন বলে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ব্যাংক গ্রাহকদের কর্মসূচি এখনো চলমান আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আমানতকারীদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমানো অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই আমানত ভাঙতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি ২০২৮ সালের আগে টাকা উত্তোলন সম্ভব নয় বলেও জানানো হচ্ছে।
তাদের আরও অভিযোগ, হেয়ার কাট পদ্ধতির মাধ্যমে আমানতের মুনাফা বা মূলধনের একটি অংশ কেটে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এ কারণে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা দ্রুত আমানতের পুরো টাকা ফেরত, মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এর আগে রোববার (৩ মে) সকাল থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর খাতুনগঞ্জ এলাকায় আমানতের ওপর মুনাফা কর্তন বা হেয়ার কাট পদ্ধতির বিরুদ্ধে ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে বিক্ষোভ করেন আমানতকারীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভরত আমানতকারীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সম্মতি ছাড়াই আমানতের ওপর মুনাফা কর্তন করা হচ্ছে, যা বিদ্যমান ব্যাংকিং নীতিমালা ও আইনের পরিপন্থী।
তারা বলেন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পুরো টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানান তারা।
গ্রাহকদের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানতের ওপর মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। নানা অজুহাতে ব্যাংকগুলো আমানত ফেরত না দেওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে ব্যাংক দুটির শাখা ব্যবস্থাপককে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, হেয়ার কাট ছাড়া আমানত নবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এআর




