সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

যশোরে ধানের বাম্পার ফলন হলেও ত্রিমুখী সংকটে হাসি নেই কৃষকের

ইমরান হোসেন পিংকু, যশোর
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ১২:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

যশোরে ধানের বাম্পার ফলন হলেও ত্রিমুখী সংকটে হাসি নেই কৃষকের

যশোরে বোরো ধানে বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, শ্রমিক সংকট এবং আকস্মিক বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন ত্রিমুখী সংকটে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তুলতে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত প্রায় ১১ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর মধ্যে ধান কাটতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা, মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত পরিবহনে ২ হাজার টাকা এবং মেশিনে মাড়াই করতে আরও ২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এতে করে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন। কেউ কেউ কম মজুরির নারী শ্রমিক নিয়োগ করছেন।


বিজ্ঞাপন


যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ৯৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এ বছর বোরো ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে বলে দাবি তাদের।

তবে জেলার চৌগাছা, ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, শার্শা, মণিরামপুর, কেশবপুর ও সদর উপজেলার কৃষকদের দাবি, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে, ফলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগের মতে, বৃষ্টিতে তেমন বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সব ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।

1fb8e911-291e-497a-bef1-d46c24936c20

চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন বলেন, ৫ বিঘা জমির ধান তুলতে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় চাপ।


বিজ্ঞাপন


একই গ্রামের কৃষক ওসমান আলী জানান, ফলন ভালো হলেও ধানের দাম কম। গত বছর যেখানে প্রতি মণ ধান ১২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, সেখানে এবার ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু দাম বাড়েনি।

সদর উপজেলার কৃষক আমিন উদ্দিন বলেন, ১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে নারী শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

যশোর পৌরসভার পাড়া-মহল্লার সড়ক খানাখন্দে ভরা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

সদর উপজেলার হরিনা বিল এলাকার কৃষক পরিমল মণ্ডল জানান, পানিতে ধান ডুবে থাকায় বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ বেড়েছে।

কেশবপুরে কৃষক জাহিদ শেখ বলেন, ধান ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম নেই। জমিতে পানি থাকায় কাঁচা ধান কাটতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিচলি (ধানের খড়) বিক্রি করে যে লোকসান পুষিয়ে নেব, তারও সুযোগ নেই।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ধানও ঘরে তোলা সম্ভব হবে। শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারণে কিছু সমস্যা হলেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর