শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ঢাকা

চলনবিলে ঢুকছে পানি: ২৬ হাজার হেক্টর জমির ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

চলনবিলে ঢুকছে পানি: ২৬ হাজার হেক্টর জমির ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে আগাম বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিলের প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান এখন হুমকির মুখে। এই ফসল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সিংড়া উপজেলায় ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হলেও বাকি ২৬ হাজার হেক্টর জমির ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন


সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একদিকে নদীর পানি হু হু করে বিলে প্রবেশ করছে, অন্যদিকে সেই পানি ঠেকাতে স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ দিয়ে ফসল রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সিংড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের হাঁসপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অকেজো স্লুইসগেটটি এখন কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গেট দিয়ে পানি প্রবেশ করায় হাঁসপুকুরিয়া, নিংগইন, খরমকুড়ি ও তাজপুর বিলের প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমির ধান সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া সিংড়া অভয়ারণ্যের পাশের স্লুইসগেট দিয়েও পানি প্রবেশের উপক্রম হওয়ায় কৃষকরা সেখানে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন।

শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা এলাকায় আত্রাই নদীর পানি বাড়ায় কৃষকরা মাটির বাঁধ দিয়ে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান রক্ষার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে সেখানে ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

সিংড়া অভয়ারণ্য এলাকা, জোরমল্লিকা ব্রিজ ও পাটকল কতুয়াবাড়ি ব্রিজ ছাড়াও উপজেলার দক্ষিণ দমদমা, জোলার বাতা ও হিয়ালাবিলসহ চলনবিলের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। মাঠের পর মাঠ ধান পেকে থাকলেও বৃষ্টির কারণে শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না। ফলে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।


বিজ্ঞাপন


হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের শাকিল হোসেন বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী ও কৃষকেরা একত্রিত হয়ে কয়েক দিন ধরে এই ভাঙা স্লুইসগেটের মুখে বালুর বস্তা ফেলছি। কিন্তু নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই অস্থায়ী বাঁধ কতক্ষণ টিকবে তা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত।’

একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার ১২ বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সারা বছরের খোরাক এই মাঠেই পচে যাওয়ার দশা।’ কৃষক হানিফ প্রামাণিক জানান, তার ৭ বিঘা জমির ধান এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। তিনি নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আগাম বন্যার খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সংসদ অধিবেশন শেষ করেই তিনি সরাসরি এলাকায় এসে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে জোরমল্লিকা ব্রিজের নিচে ভেকু দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর