শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ঢাকা

রংপুর নগরীর সড়কসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ

রেজাউল করিম জীবন, রংপুর
প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

রংপুর নগরীর সড়কসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ
রংপুর নগরীর সড়কসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতের রংপুর নগরীর কয়েকটি সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পরেছে ওইসব এলাকার মানুষ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

শনিবার (২ মে) সকাল পর্যন্ত মহানগরীতে ৬৮.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা ফুটে ওঠেছে।


বিজ্ঞাপন


22a7994a-376e-4c0f-81ec-fa4222a2f8c5

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ এবং পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, নীলকণ্ঠ সোটাপীর, শান্তিবাগসহ অন্তত ১০ এলাকায় সড়কে হাঁটু পানি জমে আছে। অনেক জায়গায় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে রাস্তায় চলে আসায় দুর্গন্ধের কারণে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ময়লা পানি দিয়েই চলাচল করছেন। অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে পরেছে। কারো কারো বিছানায় পর্যন্ত পানি ওঠেছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে পানি ঢুকে পরেছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠান। এমন অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পরেছে এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষ। 

35f0ed8e-4180-4ce3-ba45-f2d1a9861a05

নগরবাসীর অভিযোগ, সিটি করপোরেশন একের পর এক রাস্তা নির্মাণ করেছে, কোথায় কোথায় অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করেছে। আবার অনেক স্থানে পানি নিষ্কানের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার কোথায় ড্রেন থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার বা সংস্কার করা হয় না। ফলে অল্প বৃষ্টিতে ভরে যাচ্ছে ওসব এলাকা। আবার কোথাও বৃষ্টির পানি নেমে যেতে না পারায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


8973dbe5-40d8-4c98-9e54-a26b9f6eb823

নগরীর মাস্টার পাড়ায় অবস্থিত দারুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান, এই এলাকায় কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই। যার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই মাদরাসায় পানি জমে যায়। ছোট ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের থাকার ঘরও পানির মধ্যে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা মসজিদের ভিতরে থাকছেন। এই সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। কোনো সমাধান হচ্ছে না।

5bc80ffc-c0c3-4e13-8361-b431bbbbc422

৯০ বছরের এন্তাজ আলী জানান, ভাগ্যের কি নির্মমতা, এই এলাকায় বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে, রাস্তা হয়েছে, কিন্তু কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। যার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যাচ্ছে। এলাকার ময়লা আবর্জনা রাস্তার ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যদিয়ে আমাদের চলাচল করা লাগতেছে।

চারতলা মোড় কলোনির বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকায় কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছি। প্রতি বছরই বৃষ্টির মৌসুমে আমাদের এলাকা ডুবে যায়। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা শুধু ড্রেন নির্মাণ ও পরিষ্কারের আশ্বাস দেয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। এভাবেই বছরের পর বছর চলছে। আমাদের কষ্টের কথা কেউ ভাবে না। নেতারা শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করেন।

976569c5-6b8f-4b10-9b33-f1c17a196959

বাবুখাঁ এলাকার বাসিন্দা কানিজ আফরিন বলেন, দেশের মধ্যে এই একটি এলাকা। যেখানে পরিকল্পনাহীনভাবে বাড়িঘর নির্মাণ হচ্ছে, অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। পানি হলে ড্রেন থাকে পানির নিচে। আবার কোথায় ড্রেন থাকলে পরিষ্কারের কোনো নাম নেই। যার কারণে ময়লা-আবর্জনায় ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে আছে। তাহলে পানি যাবে কোথায়? এসব দেখার যেন কেউ নাই।

এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসান বলেন, আমাদের নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কোনো মাস্টার প্লান না থাকায় এই অবস্থা হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, ইতোমধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টার প্লানের জন্য ভালো কনসালটিং ফার্মের প্রতিনিধি এসব ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিদর্শন করে গেছে। মাস্টার প্লান মতো কাজ হলে আর হয়তো এসব সমস্যা হবে না। তাছাড়া কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, সেই সব স্থানে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। সাময়িকভাবে যে সমাধান সেটা করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মহানগরীতে ২৪ ঘণ্টায় ৬৮.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৪ মে পর্যন্ত এমন বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ তারিখের পর থেকে আকাশ পরিষ্কার হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর