কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়শা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রতিবেশী রিকশাচালক রাশেদুল ইসলাম আপেল ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমকে। শুক্রবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয় নিজ বাড়ি থেকে। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন কোহিনুর।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকায় দিনভর নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় আয়শার মরদেহ। একই এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে সে। এ ঘটনায় তার বাবা মামলা করেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনও করেন স্থানীয়রা।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন প্রতিবেশী আপেল-কোহিনুর দম্পতির সন্তানের সঙ্গে খেলছিল আয়শা। খেলার সময় একটি কলমের আঘাতে আহত হয় আয়শা। এতে সে কান্না শুরু করলে ভয় পেয়ে তার মুখ চেপে ধরেন কোহিনুর। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে শিশুটি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে শিশুটিকে ঘরের একটি ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন কোহিনুর। দিনভর সেখানে আটকে থাকায় মারা যায় আয়শা। এরমধ্যে আয়শাকে স্বজনরা খুঁজতে শুরু করলে, আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কোহিনুর। পরে সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশে ফেলে রাখেন শিশুটির মরদেহ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম উল্লেখ করেছেন, এটি একটি জটিল ও ক্লুলেস মামলা ছিল। নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আদালত জবানবন্দি গ্রহণ করে উভয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার।
প্রতিনিধি/একেবি




